13 October 2021 BENGALI Murli Today – Brahma Kumaris

Read and Listen today’s Gyan Murli in Bengali

October 12, 2021

Morning Murli. Om Shanti. Madhuban.

Brahma Kumaris

আজকের শিব বাবার সাকার মুরলি, বাপদাদা, মাধুবন। Brahma Kumaris (BK) Murli for today in Bengali. This is the Official Murli blog to read and listen daily murlis.

"মিষ্টি বাচ্চারা - রক্তের সম্পর্কেই দুঃখ আছে, তোমাদের সেই সম্পর্ক ত্যাগ করে নিজেদের মধ্যে আত্মিক ভালোবাসা রাখতে হবে, এই সম্পর্কই সুখ আর আনন্দের আধার"

প্রশ্নঃ --

বিজয় মালায় স্থান পাওয়ার জন্য বিশেষভাবে কোন্ পুরুষার্থ করা উচিত ?

উত্তরঃ -:-

বিজয় মালায় স্থান পাওয়ার জন্য বিশেষভাবে পবিত্র হওয়ার পুরুষার্থ করো। যখন পাক্কা সন্ন্যাসী অর্থাত্ নির্বিকারী হতে পারবে তখনই বিজয় মালার দানা হতে পারবে। যে কোনো কর্মবন্ধনের হিসেব-নিকেশ থাকলে, উত্তরাধিকার (বিজয় মালায় যাওয়ার) থেকে বঞ্চিত হবে, এবং প্রজাতে চলে যাবে।

গান:-

জলসাঘরে জ্বলে উঠল জ্যোতি সেই জ্যোতিতে জ্বলে মরাই পিপীলিকার বিধি…

ওম্ শান্তি । দেখ আমরা মহিমা করে থাকি আমাদের বাবার। অহম্ আত্মা, তাহলে অবশ্যই আমাদের ফাদারকে প্রত্যক্ষ করাবে তাইনা। সন শোজ ফাদার। সুতরাং আমি আত্মা, তোমরাও বলবে আমরা আত্মা, আমাদের সবার ফাদার এক পরমাত্মা যিনি সবার পিতা। এটা তো সবাই মানবে। এমনটা বলবে না যে আমরা আত্মাদের পিতা আলাদা-আলাদা। সবারই ফাদার এক। এখন আমরা ওঁনার সন্তান হওয়ার কারণে ওঁনার বৃত্তি সম্পর্কে জানি। আমরা এমনটা বলতে পারি না যে পরমাত্মা সর্বব্যাপী। তাহলে তো সবার মধ্যেই পরমাত্মা আছে। ফাদারকে স্মরণ করে বাচ্চারা খুশি অনুভব করে কেননা ফাদারের কাছে যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকার বাচ্চারাই পেয়ে থাকে। আমরা এখন পরমাত্মার উত্তরাধিকারী, ওঁনার কাছে কি আছে ? উনি আনন্দের সাগর, জ্ঞানের সাগর, প্রেমের সাগর। আমরা সেটা জানি তাইতো ওঁনার মহিমা করে থাকি।অন্যরা এগুলো বলবে না। মহিমা করেও কেউ-কেউ বলে থাকে তিনি কেমন, এটা তো জানাই নেই। বাকিরা সবাই বলে থাকে পরমাত্মা সর্বব্যাপী। কিন্তু আমরা ওঁনার সন্তানরা নিজেদের নিরাকার অবিনশ্বর পিতার মহিমা বর্ণনা করে থাকি যে তিনি আনন্দের সাগর, জ্ঞানের সাগর, প্রেমের ভান্ডার। কিন্তু কেউ-কেউ প্রশ্ন করবে তোমরা বলে থাক যে ওখানে নিরাকার দুনিয়াতে দুঃখ সুখ থেকে ভিন্ন অবস্থা থাকে। ওখানে সুখ অথবা আনন্দ অথবা প্রেম কোথা থেকে আসে? এটাই এখন বোঝার বিষয়। এই যারা আনন্দ, সুখ অথবা প্রেম বলছে, এটা তো হচ্ছে সুখের অবস্থা কিন্তু ওখানে শান্তির দেশে আনন্দ, প্রেম অথবা জ্ঞান কোথা থেকে আসে ? ঐ সুখের সাগর যখন এই সাকার সৃষ্টিতে অবতীর্ণ হন তখনই সুখ প্রদান করে থাকেন। ওখানে তোমরা এমন পর্যায়ে থাকো যা সুখ এবং দুঃখের বাইরে। তোমাদের ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এক হচ্ছে সুখ এবং দুঃখের বাইরের জগত, যাকে নিরাকার দুনিয়া বলা হয়। অপরটি হচ্ছে সুখের দুনিয়া যেখানে নিরন্তর সুখ আর আনন্দ থাকে যাকে বলা হয় স্বর্গ আর এটা হলো দুঃখের দুনিয়া যাকে নরক অথবা লৌহ যুগ বলা হয়। এখন এই আয়রন এজড ওয়ার্ল্ডে পরমপিতা পরমাত্মা যিনি সুখের সাগর, তিনি এসে এই দুনিয়াকে পরিবর্তন করে আনন্দ, সুখ, প্রেমের ভান্ডার করে তোলেন। যেখানে শুধুই সুখ আর সুখ। শুধুই প্রেম আর প্রেম। সেখানে জানোয়ারের মধ্যেও প্রেম থাকে। সেখানে বাঘে গরু একসাথে জল পান করে থাকে, এতোটাই তাদের মধ্যে প্রেম থাকে। সুতরাং পরমাত্মা এসে যে রাজধানী স্থাপন করেন, সেখানে সুখ আর আনন্দ আছে। নিরাকার জগতে সুখ আনন্দ, প্রেমের কোনও প্রশ্ন নেই। সেখানে নিরাকার আত্মাদের বাসস্থান। সেখানে সবার অবসর জীবন অথবা নির্বাণ অবস্থা। যেখানে দুঃখের কোনো অনুভূতি থাকে না। দুঃখ সুখের ভূমিকা এই সাকার দুনিয়াতে চলে। এই সৃষ্টিতেই যখন স্বর্গ থাকে তখন আত্মিক ভালোবাসা থাকে কেননা দুঃখ আসে রক্তের সম্পর্ক থেকে। সন্ন্যাসীদের মধ্যে তো রক্তের সম্পর্ক থাকে না সেইজন্য ওদের মধ্যে দুঃখের প্রশ্নই আসে না। ওরা বলে থাকে আমি সত্য চিত্ত আনন্দ স্বরূপ কেননা রক্তের সম্পর্ক ত্যাগ করে বেরিয়ে আসে। এখানেও তোমাদের মধ্যে কোনো ব্লাড কানেকশন নেই। এখানে তোমাদের সবার মধ্যে আত্মিক ভালোবাসা, যা পরমাত্মা শেখান।

বাবা বলেন তোমরা আমার প্রিয় সন্তানগণ। আমার আনন্দ, প্রেম, সুখ তোমাদের কেননা তোমরা ঐ দুনিয়া ছেড়ে ব্যবহারিক জীবনে আমার কোলে এসে বসেছ। এমনটা নয় যেমন ঐ গুরুরা দত্তক নেয় কিন্তু তারা ফিরে যায় নিজের ঘরে। তাদের প্রিয় পুত্র বলা হয় না। ওরা গুরুর প্রজার মতো। বাকি যারা সন্ন্যাস নিয়ে দত্তক নিয়ে থাকে তাদের প্রিয় পুত্র বলা হয় কারণ গুরুর বিদায়ের পর তারাই গদিতে বসে। বাচ্চা আর প্রজার মধ্যে রাত-দিনের পার্থক্য থাকে। ওরা উত্তরাধিকারী হয়ে উত্তরাধিকার গ্রহণ করে থাকে। যেমন তোমরা রক্ত সম্পর্ক ত্যাগ করে এসে এই নিরাকার বা সাকারের কোলে বসার সাথে-সাথেই উত্তরাধিকার পেয়ে গেছ। এখানেও যত জ্ঞান ধারণ করবে তত বেশি আনন্দ পাবে। এডুকেশনকে বলা হয় আনন্দ। যত বেশি শিক্ষা গ্রহণ করবে, ততই ঐ রাজধানীতে প্রজার সুখ প্রাপ্ত করবে। এই ঈশ্বরীয় জ্ঞান আনন্দ প্রদান করে তাইনা, যার মাধ্যমে চুড়ান্ত শান্তি আর সুখ পাওয়া যায় এই অটল অখন্ড সুখ শান্তিময় স্বরাজ্য হলো ঈশ্বরীয় সম্পদ, যা বাচ্চারা পেয়ে থাকে।

তারপর যে যতটা জ্ঞান ধারণ করতে পারবে, ততই বাবার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবে। যেমন তোমাদের কাছে অনেক কৌতূহলী হয়ে আসে তারা হলো, তোমাদের প্রিয় প্রজা। বাচ্চা নয় কেননা আসা যাওয়া করে থাকে, বাচ্চাও হয়ে থাকতে পারে কেননা প্রজা থেকেও কেউ উত্তরাধিকারী হয়ে যায়। জ্ঞান অর্জন করতে-করতে যখন দেখে এখানে তো অতীব সুখ আর শান্তি, ঐ দুনিয়াতে (পুরানো) তো দুঃখ সুতরাং কোল গ্রহণ করে। খুব তাড়াতাড়ি কেউ বাচ্চা হয়ে যায় না। তোমরাও প্রথমে আসা যাওয়া করতে তারপর শুনতে-শুনতে ঈশ্বরের কোল গ্রহণ করেছ, সুতরাং উত্তরাধিকারী হয়ে গেলে। সন্ন্যাসীদের সাথেও এমনটা হয়। শুনতে-শুনতে যখন বুঝতে পারে যে সন্ন্যাস গ্রহণ করলে সুখ শান্তি পাওয়া যায় তখন সন্ন্যাস গ্রহণ করে থাকে। এখানেও শুনতে-শুনতে যখন স্বাদ পেয়ে যায় তখন প্রিয় সন্তান হয়ে ওঠে সুতরাং জন্ম-জন্মান্তরের জন্য উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়ে থাকে। তারপর সে দৈবী কুলে বংশানুক্রমে আসতে থাকে। প্রজা তো সঙ্গে সঙ্গে থাকে না তারা তাদের কর্মবন্ধনের কারণে কোথায়-কোথায় চলে যায়।

যেমন গানে বলা হয়েছে জলসাঘরে জ্বলে উঠেছে জ্যোতি আহুতি দেওয়ার জন্য। সুতরাং বলিপ্রদত্তরাও জ্যোতির উপর নৃত্য করতে করতে মরে যায়। কেউ আবার চক্কর কেটে চলে যায়। এই শরীরও এক জ্যোতি যার ভিতরে সর্বশক্তিমান পিতার প্রবেশ ঘটে। তোমরাও পতঙ্গ হয়ে এসেছ, আসা যাওয়া করতে-করতে যখন রহস্য বুঝে গেছো তখন বসে পড়েছ। আসে তো হাজার লক্ষ, তোমাদের কাছেও শুনতে থাকে। ওরা যত শুনবে ততই শান্তি আর আনন্দের বরদান নিয়ে যাবে কেননা অবিনাশী ফাদারের শিক্ষার কখনোই বিনাশ হয়না। একে বলে অবিনাশী জ্ঞান ধন। এর বিনাশ হবে না। সুতরাং অল্পবিস্তরও যে শুনে থাকবে সেও প্রজাতে অবশ্যই যাবে। ওখানে প্রজারাও অতীব সুখী হয়। শাশ্বত সুখ ওখানে কেননা সবাই দেহী-অভিমানী স্থিতিতে থাকে। এখানে দেহ-অভিমানের কারণে সবাই দুঃখ ভোগ করে থাকে। সত্যযুগ স্বর্গ সুতরাং ওখানে দুঃখের লেশ মাত্র নেই। জানোয়াররাও কত সুখ শান্তিতে বসবাস করে থাকে সুতরাং প্রজাদের মধ্যেও কত সুখ আর ভালোবাসা থাকে। সবাই তো উত্তরাধিকারী হতে পারে না ।এখানে তো ১০৮ জন পাক্কা সন্ন্যাসীই বিজয় মালার দানায় স্থান পাবে। সেটাও এখনও তৈরি হয়নি, তৈরি হওয়ার পথে। সাথে-সাথে প্রজাও তৈরি হচ্ছে। ওরা বাইরে থেকে (সেন্টারের) শুনতে থাকে। ঘরে বসে যোগ করে। যোগ করতে করতে তারা এখানকার সদস্য হয়ে যায় আর প্রজা থেকে উত্তরাধিকারী হয়ে ওঠে। যতক্ষণ পর্যন্ত কর্মবন্ধনের হিসেব আছে ততক্ষণ পর্যন্ত বাইরে থেকেই যোগযুক্ত হয়, নির্বিকারী হয়ে ওঠে। সুতরাং ঘরে থেকে যে বিকারহীন হতে চেষ্টা করে অবশ্যই ঝগড়া শুরু হয় কেননা….কাম বাসনা হলো মহাশত্রু। কাম বাসনাকে জয় করে, যখন বিষ দেওয়া বন্ধ করে দাও সুতরাং ঝগড়া শুরু হয়ে যায়।

বাবা বলেন বাচ্চারা, মৃত্যু সামনে উপস্থিত । সম্পূর্ণ দুনিয়াকে বিনাশ হতে হবে। যেমন বৃদ্ধকে বলা হয় মৃত্যু সামনে, পরমাত্মাকে স্মরণ কর। বাবাও বলেন বাচ্চারা নির্বিকারী হও। পরমাত্মাকে স্মরণ কর। যেমন তীর্থে গেলে কাম ক্রোধ সব বন্ধ করে দেয়। পথে কামবাসনা চরিতার্থ তো করে না। সে তো সম্পূর্ণ পথ অমরনাথ কি জয় জয় করতে-করতে যায় কিন্তু ফিরে আসার পর আবারও ঐ বিকারের বশীভূত হয়ে গুঁতো খেতে থাকে। তোমাদের তো ফিরতে হয়না। কাম, ক্রোধে আসা উচিত নয়। বিকারগ্রস্ত হলেই পদ ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। পবিত্র হতে পারবে না। যে পবিত্র হবে সেই বিজয় মালায় যাওয়ার যোগ্য হবে। যে অসফল হবে সে চন্দ্রবংশীয় ঘরানায় চলে যাবে।

এ’সবই পরমপিতা তোমাদের বসে পড়ান। তিনিই জ্ঞানের সাগর তাই না। ওখানে নিরাকার দুনিয়াতে বসে আত্মাদের তো জ্ঞান শোনাবেন না। এখানে এসেই তোমাদের জ্ঞান প্রদান করেন। তিনি বলেন তোমরা আমার সন্তান। আমি যেমন পবিত্র তেমনি তোমরাও পবিত্র হও। তবেই তোমরা সত্যযুগে সুখময়, প্রেমময় রাজত্ব করতে পারবে, যাকে বৈকুন্ঠ বলা হয়। এখন এই দুনিয়া পরিবর্তন হচ্ছে লৌহ যুগ থেকে স্বর্ণযুগ হতে চলেছে। তারপর স্বর্ণযুগ থেকে রৌপ্যযুগে পরিবর্তন হবে। রৌপ্যযুগ থেকে তাম্র যুগ, তারপর আবার তাম্র যুগ থেকে লৌহ যুগে পরিবর্তন হবে। এভাবেই দুনিয়ার পরিবর্তন হতে থাকে। সুতরাং এখন এই দুনিয়ার পরিবর্তন হতে চলেছে। কে পরিবর্তন করছেন? স্বয়ং ঈশ্বর, তোমরা যাঁর প্রিয় সন্তান হয়েছ। প্রজাও তৈরি হচ্ছে কিন্তু বাচ্চা বাচ্চাই, প্রজা প্রজা। যে সন্ন্যাস গ্রহণ করে সে উত্তরাধিকারী হয়ে যায়। তাকে রয়াল ঘরানায় অবশ্যই যেতে হবে। কিন্তু জ্ঞান যদি সেভাবে ধারণ না করে থাকে তবে পদ পাবে না। যে ঈশ্বরীয় পঠন-পাঠন করবে সেই নবাব হবে। যারা আসা যাওয়া করবে তারা প্রজা কুলে যাবে। যত পবিত্র হবে ততই সুখ ভোগ করবে। প্রিয় তো ওরাও হয় কিন্তু সম্পূর্ণ প্রিয় তখনই হবে যখন বাবার বাচ্চা হবে। বুঝেছ।

সন্ন্যাসীও অনেক রকম আছে। এক আছে যারা ঘর পরিবার ছেড়ে চলে যায়, দ্বিতীয় হলো যারা ঘর পরিবারে থেকেও বিকারগ্রস্ত হয়না। তারা ফলোয়ার্সদের বসে শাস্ত্র ইত্যাদি শুনিয়ে থাকে। আত্মার জ্ঞান প্রদান করে থাকে, ওদেরও শিষ্য থাকে।

কিন্তু ওদের শিষ্য প্রিয় সন্তান হতে পারে না কেননা ওরাতো গৃহস্থ, সন্তানাদি থাকে। সুতরাং নিজের কাছে বসাতে পারেনা। না স্বয়ং সন্ন্যাস নিতে পারে, না অন্যদেরও সন্ন্যাস করাতে পারে। ওদের শিষ্যও ঘর-পরিবারে থাকে। ওদের কাছে আসা যাওয়া করতে থাকে। ওরা শুধুমাত্র জ্ঞান প্রদান করে অথবা মন্ত্র দিয়ে থাকে। ওদের তো উত্তরাধিকার তৈরি হয়না সুতরাং বৃদ্ধি কিভাবে হবে। শুধু জ্ঞান প্রদান করে আর শরীর ত্যাগ করে চলে যায়।

দেখো, এক মালা হচ্ছে ১০৮ এর দ্বিতীয়টা এর থেকে বড় ১৬ হাজার ১০৮ এর মালা। সেটা চন্দ্রবংশীয় ঘরানার রয়্যাল প্রিন্স প্রিন্সেসদের মালা। সুতরাং যারা যথার্থ রীতিতে জ্ঞান ধারণ করবে না, পবিত্র হবে না তারা দন্ড ভোগ করে চন্দ্রবংশীয় ঘরানার মালায় স্থান পাবে। অসংখ্য প্রিন্স প্রিন্সেস হবে।

এই রহস্য তোমরা এখন শুনে থাকো, জেনে থাকো। ওখানে এই জ্ঞানের কথা লুপ্ত হয়ে যায়। এই জ্ঞান শুধুমাত্র এই সঙ্গম যুগে পাওয়া যায় যখন দৈবী ধর্মের স্থাপনা হয়। যা শোনানো হয় তারপরও যদি কর্মেন্দ্রিয়ের উপর জয়লাভ না হয় তবে সে চন্দ্রবংশীয় ঘরানার মালায় চলে যাবে। যে জিতবে সে সূর্যবংশীয় ঘরানায় যাবে। সেখানেও নম্বরানুসারে আছে। শরীরও অবস্থা অনুসারে প্রাপ্ত হবে। দেখো, মাম্মা কত তীব্র পুরুষার্থ করে গেছেন সুতরাং তিনি স্কলারশিপও প্রাপ্ত করেছেন। মনিটর হয়ে গেছেন। ওনাকে সম্পূর্ণ জ্ঞানের কলস প্রদান করা হয়েছে, ওনাকে আমিও মাতা বলে থাকি কেননা আমিও সম্পূর্ণ তন মন ধন ওনার চরণে স্বাহা করেছি, লৌকিক সন্তানকে দিইনি, কেননা সে তো রক্ত সম্পর্কের। এখানে তো তোমরা আত্মিক সন্তান, তোমরা সবকিছু ত্যাগ করে এখানে এসেছ, সেইজন্য তোমাদের প্রতি আরও বেশি ভালোবাসা রয়েছে। আত্মিক ভালোবাসা সবচেয়ে শক্তিশালী। সন্ন্যাসীরা তো ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এখানে সব দিয়ে স্বাহা করেছ। পরমাত্মা স্বয়ং প্র্যাকটিক্যাল অভিনয় করে দেখান।

তোমরা যে কোনো প্রশ্নের উত্তর এখানে পেতে পার। পরমাত্মা স্বয়ং এসে বলে থাকেন। তিনি হলেন জাদুকর, ওনার এই জাদুকরের ভূমিকা এখন চলছে। তোমরা বাবার অতি প্রিয় বাচ্চারা, বাবা কখনোই তোমাদের অখুশী করতে পারেন না। অখুশী হলে বাচ্চারাও ক্রোধ করতে শিখে যায়। এখানে সবার প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা থাকে। স্বর্গেও কত ভালোবাসা থাকে। ওখানে সবাই সতোপ্রধান।

এখানে আসা ভিজিটার্স আসে, তাদেরও সেবা করা হয়। কারণ তাদের প্রতিও পীস আর হ্যাপিনেস বর্ষিত হয় । তারাও তো প্রিয় প্রজা হতে যাচ্ছে। মা বাবা বাচ্চারা সবাই তাদের সার্ভিসে লেগে পড়ে। যদিও দেবী-দেবতা হতে যাচ্ছে কিন্তু এখানে ঐ পদের অহঙ্কার থাকে না। সবাই ওবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট হয়ে সার্ভিস করতে হাজির হয়ে যায়। গডও ওবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট হয়ে নিজের প্রিয় সন্তান আর প্রজার সার্ভিস করে থাকেন। ওঁনার সন্তানদের প্রতিই খুশি থাকেন । আচ্ছা।

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি নয়নের মণি, কল্পে-কল্পে হারিয়ে যাওয়া বাচ্চারা যারা পুনরায় এসে মিলিত হয়েছে, সেই বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসা, স্মরণ আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-

১ ) যেমন বাপদাদা কখনও বাচ্চাদের অখুশী করেন না, তেমনই বাচ্চারা তোমাদেরও কাউকে অখুশী করা উচিত নয়, নিজেদের মধ্যে আন্তরিক ভালোবাসার সাথে থাকতে হবে । কখনও ক্রোধ করা উচিত নয়।

২ ) পীস আর ব্লিসের বরদান নেওয়ার জন্য জ্যোতির কাছে সম্পূর্ণ রূপে সমর্পিত হও। পঠন-পাঠনের দ্বারা সুপ্রিম পীস আর হ্যাপিনেসের ঈশ্বরীয় অধিকার নিতে হবে।

বরদানঃ-

যদি সংগঠনে প্রত্যেকে একে অপরের সহযোগী, শুভচিন্তক হয়ে থাকে তবে সহযোগিতার শক্তিতে পরিবেষ্টিত হয়ে অনেক অসাধ্য সাধন করা যায়। নিজেদের মধ্যে একে অপরের সহযোগী শুভচিন্তক হয়ে থাকলে মায়ার সাহস হবে না এই পরিবেষ্টিত পরিবেশের ভিতরে প্রবেশ করার । কিন্তু সংগঠনে সহযোগিতার শক্তি তখনই আসবে যখন এই দৃঢ় সঙ্কল্প করবে, যত সহ্য করতে হয় করবো, কিন্তু সম্মুখীন হয়েই দেখাবো, বিজয়ী হয়ে দেখাবো ।

স্লোগানঃ-

Daily Murlis in Bengali: Brahma Kumaris Murli Today in Bengali

Email me Murli: Receive Daily Murli on your email. Subscribe!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top