23 April 2021 BENGALI Murli Today – Brahma Kumaris

April 22, 2021

Morning Murli. Om Shanti. Madhuban.

Brahma Kumaris

আজকের শিব বাবার সাকার মুরলি, বাপদাদা, মাধুবন। Brahma Kumaris (BK) Murli for today in Bengali. This is the Official Murli blog to read and listen daily murlis.

“মিষ্টি বাচ্চারা - এটা হলো বাবার ওয়ান্ডারফুল হাট, যেখানে সব রকমের জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তোমরাও হলে এই হাটের মালিক”

প্রশ্নঃ --

এই ওয়ান্ডারফুল দোকানদারকে কেউ কপি (নকল) করতে পারে না – কেন?

উত্তরঃ -:-

কেননা এটা স্বয়ং-ই সকল খাজানার ভান্ডার। জ্ঞানের, সুখের, শান্তির, পবিত্রতার, সকল জিনিসের সাগর, যার যেটা চাই সেটাই পাওয়া যায়। নিবৃত্তি মার্গের লোকেদের কাছে এই সব জিনিসপত্র পাওয়া যাবে না। কেউই নিজেকে বাবার সমান সাগর বলতে পারেনা।

গান:-

তোমাকে পেয়ে আমরা সারা জগৎকে পেয়ে গেছি…

ওম্ শান্তি । এখন বাচ্চারা বসে আছে অসীম জগতের বাবার সামনে। এঁনাকে অসীম জগতের বাবাও বলা যায়, অসীম জগতে দাদাও বলা যায় আর পুনরায় অসীম জগতের বাচ্চারা বসে আছে আর বাবা অসীম জগতের জ্ঞান প্রদান করছেন। লৌকিকের কথা এখন ছেড়ে দাও। এখন বাবার থেকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার নিতে হবে। হাট তো এই একটাই । মানুষের এটা জানা নেই যে আমরা কি চাই। অসীম জগতের বাবার হাট তো অনেক বড়। তাঁকে বলাই যায় সুখের সাগর, পবিত্রতার সাগর, আনন্দের সাগর, জ্ঞানের সাগর…. কোনও দোকানদার থাকলে তো তার কাছে ভিন্ন ভিন্ন রকমের ভ্যারাইটি জিনিস থাকে। তো ইনি হলেন অসীম জগতের বাবা। এঁনার কাছেও ভিন্ন ভিন্ন জিনিসপত্র আছে। কি-কি আছে? বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর, সুখের, শান্তির সাগর। তাঁর কাছে এই ওয়ান্ডারফুল অলৌকিক জিনিস আছে। আবার এই গানও করা হয় যে – তিনি হলেন সুখ কর্তা। এইরকম একটাই দোকান আছে, আর তো কারোর এইরকম দোকান নেই। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শংকরের কাছে কি জিনিস আছে? কিছুই নেই। সব থেকে উঁচু জিনিস আছে বাবার কাছে, এই জন্য তাঁর মহিমা গাওয়া হয়ে থাকে। ত্বমেব মাতাশ্চ পিতা… এইরকম মহিমা কখনো কারোর জন্য গাওয়া হয় না। মানুষ শান্তির জন্য উদ্ভ্রান্ত হতে থাকে। কারো ঔষধ চাই, কারোর কিছু চাই। সেসবের জন্য তো লৌকিক দোকান আছে। সমগ্র দুনিয়াতে সকলের কাছে লৌকিকের জিনিস আছে। ইনিই এক বাবা, যার কাছে অসীম জগতের জিনিস আছে, এই জন্য তার মহিমাও গাওয়া হয়ে থাকে যে পতিত-পাবন, মুক্তিদাতা, জ্ঞানের সাগর, আনন্দের সাগর। এইসব হলো ভিন্ন ভিন্ন জিনিসপত্র। লিস্ট লিখলে তো অনেক হয়ে যাবে। যে বাবার কাছে এইসব জিনিস আছে তো বাচ্চাদেরও অধিকার আছে সেই জিনিসের ওপর। কিন্তু এটা কারোর বুদ্ধিতে আসেনা যে যখন এইরকম বাবার আমরা বাচ্চা হয়েছি তো বাবার জিনিসের উপর আমাদের মালিক হতে হবে। বাবা আসেনই ভারতে। বাবার কাছে যা কিছু জিনিসপত্র আছে – সেসব কিছু অবশ্যই নিয়ে আসবেন। তাঁর কাছে নেওয়ার জন্য তো আমরা যেতে পারব না। বাবা বলেন যে, আমাকেই আসতে হয়। কল্প-কল্প, কল্পের সঙ্গমে আমি এসে তোমাদেরকে সব জিনিস দিয়ে যাই। আমি তোমাদের যে জিনিসপত্র দিই, সেগুলো আর কখনোই পাওয়া যায় না। অর্ধেক কল্পের জন্য তোমাদের ভান্ডার ভরপুর হয়ে যায়। এইরকম কোনও অপ্রাপ্ত বস্তু থাকে না, যার জন্য তোমরা পুনরায় আমাকে ডাকবে। ড্রামার প্ল্যান অনুসারে তোমরা সবাই উত্তরাধিকার নিয়ে পুনরায় ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকো। পুনর্জন্মও অবশ্যই নিতে হয়। ৮৪ জন্মও নিতে হয়। ৮৪ র চক্র বলে থাকে কিন্তু অর্থ কিছুই বুঝতে পারেনা। ৮৪ র পরিবর্তে ৮৪ লক্ষ জন্ম বলে দেয়। মায়া ভুল করিয়ে দেয়। এটা এখনই তোমরা বুঝতে পারছো, আবার তো এসব কিছুই ভুলে যাবে। এই সময় জিনিসপত্র গ্রহণ করছে, সত্যযুগে রাজত্ব করবে। কিন্তু তাদের এটা জানা নেই যে এই রাজত্ব আমাদেরকে কে দিয়েছিলেন? লক্ষ্মীনারায়ণের রাজ্য কবে ছিল? স্বর্গের সুখ গাওয়াও হয়ে থাকে। সবাই অল্প একটু সুখ দেয়। এর দ্বারা বেশি সুখ পাওয়া যায় না। পুনরায় সেই সুখও প্রায়ঃলোপ হয়ে যায়। অর্ধেক কল্প পরে রাবন এসে সব সুখ ছিনিয়ে নেয়। কারো প্রতি রাগ করলে তো বলা হয় তোমার কলা কায়াই শেষ হয়ে গেছে। তুমিও যে সর্ব্বগুণসম্পন্ন, ষোলোকলা সম্পূর্ণ ছিলে। সেই সমস্ত কলা এখন শেষ হয়ে গেছে। এক বাবার ছাড়া আর কারোরই এত মহিমা হয় না। বলে না যে – পয়সা আছে তো চারিদিকে ঘুরে এসো।

তোমরা ভেবে দেখো যে, স্বর্গে কতইনা অপরিমিত ধন সম্পত্তি ছিল। এখন সেসব আছে নাকি ! সব লুপ্ত হয়ে যায়। ধর্ম ভ্রষ্ট কর্ম ভ্রষ্ট হয়ে যায়। তাই ধন-সম্পত্তিও লুপ্ত হয়ে যায়। পুনরায় নিচে নামতে থাকে। বাবা বোঝাচ্ছেন যে তোমাদেরকে এত ধন-সম্পত্তি দিয়েছিলাম, তোমাদেরকে হীরের সমান বানিয়েছিলাম। পুনরায় তোমরা এত ধন-সম্পত্তি কোথায় হারিয়ে ফেললে। এখন পুনরায় বাবা বলছেন যে নিজের উত্তরাধিকার পুরুষার্থ করে গ্রহণ করো। তোমরা জানো যে বাবা আমাদেরকে পুনরায় স্বর্গের বাদশাহী প্রদান করছেন, আর বলছেন যে – হে বাচ্চারা! আমাকে স্মরণ করো তাহলে তোমাদের ওপর যে জং লেগে আছে সে সব বেরিয়ে যাবে। বাচ্চারা বলে যে বাবা আমি ভুলে যাই। এটা কি? কন্যা যখন বিবাহ করে তখন পতিকে কখনো ভুলে যায় কি? বাচ্চারা কখনো বাবাকে ভুলে যায় কি? বাবা তো হলেন দাতা। উত্তরাধিকার বাচ্চাদেরকেই গ্রহণ করতে হবে, তাই অবশ্যই স্মরণ করতে হবে। বাবা বোঝাচ্ছেন যে – মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চারা, স্মরণের যাত্রায় থাকবে তো বিকর্ম বিনাশ হবে, এছাড়া আর অন্য কোনও উপায় নেই। ভক্তি মার্গে তীর্থযাত্রা গঙ্গাস্নান ইত্যাদি যা কিছু করে এসেছ তার দ্বারা সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে নামতেই থেকেছো। উপরে তো উঠতে পারোনি। ল’সেটা বলেও না। সকলেরই অবতরণ কলা হয়। এটা যে বলে – অমুকের মুক্তি হয়ে গেছে, এসব মিথ্যে কথা বলে। বাড়ি কেউই ফিরে যেতে পারে না। বাবা এসেছেন তোমাদেরকে ষোলো কলা সম্পূর্ণ বানাতে। তোমরাই গাইতে যে – আমার এই নির্গুণ শরীরে কোনো গুণ নেই… এখন তোমরা জানো যে বাবা গুণবান বানাতে এসেছেন। আমরাই গুণবান পূজ্য ছিলাম। আমরাই উত্তরাধিকার গ্রহণ করেছিলাম। ৫ হাজার বছর হয়ে গেছে। বাবাও বলেন যে তোমাদেরকে উত্তরাধিকার দিয়ে গিয়েছিলাম। শিব জয়ন্তী, রাখি বন্ধন, দশহরা ইত্যাদি পালন করেও থাকে তথাপি কিছুই বুঝতে পারে না। সবকিছুই ভুলে যায়। পুনরায় বাবা এসে স্মরণ করিয়ে দেন। তোমরাই ছিলে, পুনরায় তোমরাই রাজ্য ভাগ্য হারিয়েছো। বাবা বোঝাচ্ছেন – এখন সমগ্র দুনিয়া পুরানো ক্ষণভঙ্গুর হয়ে গেছে। দুনিয়া তো এটাই আছে। এই ভারতই নতুন ছিল, এখন পুরানো হয়ে গেছে। স্বর্গে সর্বদা সুখ হয়ে থাকে। পুনরায় দ্বাপর থেকে যখন দুঃখ শুরু হয় তখন এই বেদ-শাস্ত্র ইত্যাদি তৈরি হয়। ভক্তি করতে করতে যখন তোমরা ভক্তি সম্পূর্ণ করো তখন ভগবান আসেন তাই না! ব্রহ্মার দিন, ব্রহ্মার রাত। অর্ধেক-অর্ধেক হবে তাইনা! জ্ঞান হল দিন, আর ভক্তি হল রাত। তারা তো কল্পের আয়ু উল্টো-পাল্টা করে দিয়েছে।

সবার প্রথমে তোমরা সবাইকে বাবার মহিমা বসে শোনাও। বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর, শান্তির সাগর। কৃষ্ণকে থোড়াই বলা যাবে – নিরাকার, পতিত-পাবন, সুখের সাগর… না, তার মহিমাই হলো আলাদা। রাত দিনের পার্থক্য আছে। শিবকে বলাই যায় বাবা। কৃষ্ণের জন্য বাবা শব্দ শোভা পায় না। কত বড় ভুল হয়ে যায়। তারপরও ছোট ছোট ভুল করতে করতে ১০০% ভুলে যায়। বাবা বলেন যে সন্ন্যাসীদের কখনো এই সওদা প্রাপ্ত হয় না। তারা হলোই নিবৃত্তি মার্গের। তোমরা হলে প্রবৃত্তি মার্গের। তোমরা সম্পূর্ণ নির্বিকারী ছিলে, নির্বিকারী দুনিয়া ছিল। এটা হল বিকারী দুনিয়া। পুনরায় বলে যে – সত্য যুগে কি বাচ্চা জন্ম নেয় না? সেখানেও তো বিকার ছিল। আরে, সেটা হলোই সম্পূর্ণ নির্বিকারী দুনিয়া। সম্পূর্ণ নির্বিকারী পুনরায় বিকারী কিভাবে হতে পারে? আবার সত্যযুগে এত মানুষ হবে, এটা কি করে হতে পারে? সেখানে এত মানুষ থোড়াই হবে! ভারত ছাড়া আর কোন খন্ড সেখানে থাকবে না। তারা বলে যে আমরা মানতে পারছি না। দুনিয়া তো সর্বদাই ভরপুর থাকবে। কিছুই বুঝতে পারেনা। বাবা বোঝাচ্ছেন যে ভারত গোল্ডেন এজড্ (স্বর্ণযুগ) ছিল। এখন তো আয়রন এজড্ (লৌহযুগ) পাথর বুদ্ধি হয়ে গেছে। এখন বাচ্চারা তোমরা ড্রামাকে বুঝে গেছো। গান্ধী প্রভৃতি সবাই রামরাজ্য চেয়েছিলেন। কিন্তু দেখায় যে মহাভারতের লড়াই লেগেছিল। ব্যস্, তারপর সব খেলা শেষ। তারপর কি হলো? কিছুই দেখায়নি। বাবা বসে এসব কথা বোঝাচ্ছেন। এ’সব তো হলো খুবই সহজ। শিবজয়ন্তী পালন করে – তাহলে অবশ্যই শিব বাবা এসেছিলেন। তিনি হলেন হেভেনলি গডফাদার তো অবশ্যই হেভেন অর্থাৎ স্বর্গের গেট খুলতে আসবেন। আসবেনই তখন যখন নরক হয়ে যাবে। হেভেনের দ্বার খুলে হেল অর্থাৎ নরকের দ্বার বন্ধ করে দেবেন। স্বর্গের দ্বার খুললে তো অবশ্যই সবাই স্বর্গেই আসবে। এইসব কথা কোনও ডিফিকাল্ট নয়। মহিমা কেবল একবার বাবারই আছে। শিব বাবার একটাই দোকান। তিনি হলেন অসীম জগতের বাবা। অসীম জগতের বাবার দ্বারা ভারতের স্বর্গ সুখ প্রাপ্ত হয়। অসীম জগতের বাবা স্বর্গ স্থাপন করেন। বরাবর অসীম জগতের সুখ ছিল। পুনরায় আমরা নরকে কেন পড়ে আছি? এটা কেউই জানেনা। বাবা বোঝাচ্ছেন যে তোমরাই ছিলে পুনরায় তোমরাই নেমে গেছো। দেবতাদেরই ৮৪ জন্ম নিতে হয়। এখন এসে পতিত হয়ে গেছে। তাদেরকেই পুনরায় পবিত্র হতে হবে। বাবার জন্ম হয় তো রাবনের জন্ম হয়। এসব কারোরই জানা নেই। কাউকে জিজ্ঞাসা করো তো রাবনকে কবে থেকে জ্বালানো হয়? বলে দেবে যে – সে তো অনাদি চলে আসছে। এই সমস্ত রহস্য বাবা বোঝাচ্ছেন। সেই বাবার একটাই দোকানের মহিমা আছে। সুখ- শান্তি-পবিত্রতা মানুষের দ্বারা মানুষের কখনোই প্রাপ্ত হতে পারে না। কেবলমাত্র একজনের থোড়াই শান্তি প্রাপ্ত হয়েছিল। এ’সব মিথ্যা কথা বলে যে অমুকের থেকে শান্তি প্রাপ্ত হয়েছে। আরে, শান্তি তো মিলবে – শান্তিধামে। এখানে তো একজনের শান্তি হবে, তো অন্যজন অশান্ত করবে তখন শান্তিতে থাকতে পারবে না। সুখ-শান্তি-পবিত্রতা সব জিনিসেরই ব্যাপারী হলেন এক শিব বাবা। তাঁর থেকে যে কেউ এসে ব্যাপার করতে পারে। তাঁকে বলাই যায় সওদাগর, পবিত্রতা, সুখ-শান্তি-সম্পত্তি সবকিছু তাঁর কাছে আছে। অপ্রাপ্ত কোনও বস্তু নেই। তোমরা স্বর্গের রাজ্য প্রাপ্ত করো। বাবা তো দিতে এসেছেন, আর গ্রাহকেরা নিতে নিতে ক্লান্ত হয়ে যায়। আমি আসিই দেওয়ার জন্য আর তোমরা ঠান্ডা হয়ে যাও গ্রহণ করার ক্ষেত্রে। বাচ্চারা বলে যে – বাবা, মায়ার তুফান আসে। হ্যাঁ,পদও অনেক উঁচু প্রাপ্ত হয়। স্বর্গের মালিক তৈরি হও, এটা কি কম কথা! তাই পরিশ্রম তো করতেই হবে। শ্রীমতে চলতে থাকো। যা কিছু জিনিসপত্র প্রাপ্ত হয় সেই গুলো পুনরায় অন্যদেরকেও দিতে হবে। দান করতে হবে। পবিত্র হতে হবে তো পাঁচ বিকারের দান অবশ্যই দিতে হবে। পরিশ্রম করতে হবে। বাবাকে স্মরণ করতে হবে, তবেই জং ছাড়বে। মুখ্য হলো স্মরণ। প্রতিজ্ঞাও যদিও করো যে, বাবা আমরা বিকারে কখনো যাব না, কারোর উপর ক্রোধ করবো না। কিন্তু স্মরণে অবশ্যই থাকতে হবে। না হলে তো এত পাপ কিভাবে বিনাশ হবে। এছাড়া জ্ঞান তো হলো খুবই সহজ। ৮৪ জন্মের চক্র কিভাবে লাগিয়েছো, এটা যে কাউকে তোমরা বোঝাতে পারো। কিন্তু স্মরণে যাত্রাতে পরিশ্রম আছে। ভারতের প্রাচীন যোগ বিখ্যাত। কি জ্ঞান প্রদান করেন – মন্মনাভব অর্থাৎ মামেকম্ স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। তোমরা গেয়েও ছিলে যে আপনি যখন আসবেন তখন অন্যান্য সকল সঙ্গ ছেড়ে একসঙ্গে জুড়ে নেব। আপনার কাছে সমর্পিত হয়ে যাব। আপনাকে ছাড়া আর কাউকে স্মরণ করবো না। প্রতিজ্ঞা করেছিলে তথাপি ভুলে কেন যাও? বলেছিলে যে – হাত দিয়ে কাজ করেও হৃদয় দিয়ে স্মরণ করবো… কর্মযোগী তো হলে তোমরাই । ধান্দা ইত্যাদি করেও বুদ্ধির যোগ বাবার সাথে লাগাতে হবে। প্রেমিক বাবা নিজেই বলছেন যে তোমরা প্রেমিকা হয়ে আমাকে অর্ধেক কল্প স্মরণ করেছিলে। এখন আমি এসে গেছি, আমাকে স্মরণ করো। এই স্মরণই বারে বারে ভুলে যাও, এতেই পরিশ্রম আছে। কর্মাতীত অবস্থা হয়ে গেলে তো এই শরীরই ছেড়ে দিতে হবে। যখন রাজধানী স্থাপন হয়ে যাবে তখন তোমরা কর্মাতীত অবস্থাকে প্রাপ্ত করবে। এখন তো সবাই হলো পুরুষার্থী। সবথেকে বেশি মাম্মা-বাবা স্মরণ করেছিলেন। সূক্ষ্মলোকেও সেটা দেখা যায়।

বাবা বোঝাচ্ছেন যে – আমি যার মধ্যে প্রবেশ করি, তার সেই জন্ম হল অনেক জন্মের অন্তিম জন্ম। সে-ও পুরুষার্থ করছে। কর্মাতীত অবস্থাতে এখন কেউই পৌঁছাতে পারবে না। কর্মাতীত অবস্থা এসে গেলে তো পুনরায় এই শরীরই আর থাকতে পারবে না। বাবা তো অত্যন্ত ভালোভাবে বোঝাচ্ছেন। এখন যারা বুঝছে তাদের বুদ্ধিতে আছে। হেভেনলি গডফাদার হলেন একজনই। তাঁর কাছেই জ্ঞানের সবকিছু সামগ্রী আছে। তিনি হলেন জাদুঘর। আর কারো থেকে সুখ-শান্তি পবিত্রতার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হতে পারে না। বাবা অত্যন্ত ভালো রীতি বোঝাচ্ছেন। বাচ্চাদেরকে ধারণ করে অন্যদেরকেও ধারণ করাতে হবে। যতটা ধারণ করবে, ততোই উত্তরাধিকার নিতে পারবে। দিন-প্রতিদিন অনেক পুষ্টিকর জিনিস প্রাপ্ত হতে থাকবে। লক্ষ্মী-নারায়ণকে দেখো কত মিষ্টি। তাদের মত মিষ্টি হতে হবে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার। আর কী কোনো সৎসঙ্গে এই রকম বলা হবে কী ? এটা হল আমাদের একেবারেই নতুন ভাষা, যাকে স্পীরিচুয়াল নলেজ বলা হয়।

ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-

১ ) বাবার দ্বারা যে সুখ-শান্তি-পবিত্রতার জিনিসপত্র (বক্খর) প্রাপ্ত হয়েছে সেগুলি সবাইকে দিতে হবে। প্রথমে বিকারের দান দিয়ে পবিত্র হতে হবে পুনরায় অবিনাশী জ্ঞান ধনের দান করতে হবে।

২ ) দেবতাদের মতো মিষ্টি হতে হবে। বাপ দাদার কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলে, তা সর্বদা স্মরণে রাখতে হবে আর বাবার স্মরণে থেকে বিকর্মও বিনাশ করতে হবে।

বরদানঃ-

যে নিজের প্রতি ল’ফুল হয় সে-ই অন্যদের প্রতিও ল’ফুল হতে পারে। যে স্বয়ং ল’কে ব্রেক করে সে অন্যদের উপরও ল’চালাতে পারে না, এইজন্য নিজেকে দেখো যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মন্সা সংকল্পে, বাণীতে, কর্মে, সম্পর্ক বা একে অপরকে সহযোগ দেওয়াতে বা সেবাতে কোথাও ল’ব্রেক তো হয়না! যে ল’মেকার হয়, সে ল’ব্রেকার হতে পারে না। যে এই সময় ল’মেকার হয়, সে-ই পিস মেকার, নিউ ওয়ার্ল্ড মেকার হয়ে যায়।

স্লোগানঃ-

Daily Murlis in Bengali: Brahma Kumaris Murli Today in Bengali

Email me Murli: Receive Daily Murli on your email. Subscribe!

0 Comment

No Comment.

Scroll to Top