25 July 2021 BENGALI Murli Today – Brahma Kumaris

Read and Listen today’s Gyan Murli in Bengali

July 24, 2021

Morning Murli. Om Shanti. Madhuban.

Brahma Kumaris

আজকের শিব বাবার সাকার মুরলি, বাপদাদা, মাধুবন। Brahma Kumaris (BK) Murli for today in Bengali. This is the Official Murli blog to read and listen daily murlis.

"তন, মনের ক্লান্তি দূর করার উপায় - 'শক্তিশালী স্মরণ"

আজ পরদেশী বাবা নিজের অনাদি দেশবাসী আর আদি দেশবাসী, সেবা-অর্থে সবাই বিদেশি, এই রকম বাচ্চাদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য এসেছেন। বাপদাদা জানেন যে এরাই আমার হারানিধি প্রিয় বাচ্চা, অনাদি দেশ পরমধাম-নিবাসী আর সেইসঙ্গে সৃষ্টির আদিতে এই ভারত ভূমিতে যখন সত্যযুগী স্বদেশ ছিল, আপন রাজ্য ছিল যাকে সবাই ভারত বলে, আদিতে এই ভারত-দেশবাসী ছিলে। এই ভারত ভূমিতে ব্রহ্মাবাবার সঙ্গে একসাথে রাজত্ব করেছিলে। অনেক জন্ম তোমাদের আপন রাজ্যে সুখ-শান্তি সম্পন্ন সুদীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করেছ। সেইজন্য আদি দেশবাসী হওয়ার কারণে ভারত ভূমির প্রতি তোমাদের হৃদয়ের স্নেহ থাকে। এখন অন্তে ভারত যতই গরিব বা ধূলামলিন হয়ে যাক না কেন, তবুও নিজের দেশ সেতো নিজেরই হয়। সুতরাং তোমরা সব আত্মার আপন দেশ এবং শরীরধারী দেবতা জীবনের আপন দেশ কোনটা ছিল ? ভারতই ছিল, তাই না ! কত জন্ম ভারত ভূমিতে থেকেছ তা’ মনে আছে তোমাদের ? ২১ জন্মের উত্তরাধিকার বাবার থেকে তোমরা সবাই প্রাপ্ত করে নিয়েছ, সেইজন্য ২১ জন্মের গ্যারান্টি তো আছেই। পরেও প্রত্যেক আত্মার অনেক জন্ম ভারত ভূমিতেই হয়েছে কারণ যারা ব্রহ্মাবাবার নিকট আত্মা, তাঁর সমান হওয়া আত্মা, তারা ব্রহ্মা বাবার সঙ্গে একসাথে নিজেই পূজ্য, নিজেই পূজারীর পার্টও প্লে করে। দ্বাপর যুগের প্রথম ভক্ত হও তোমরা ব্রাহ্মণ আত্মারা। স্বর্গের আদিতে এই দেশের বাসিন্দা ছিলে এবং অনেকবার ভারত-ভূমির বাসিন্দা হয়েছ। সেইজন্য ব্রাহ্মণদের অলৌকিক সংসার মধুবনের প্রতি তোমাদের ভালোবাসা গভীর। এই মধুবন ব্রাহ্মণদের ছোট একটা দুনিয়া। সুতরাং এই দুনিয়া খুব ভালো লাগে, তাই না ! এখান থেকে ফিরে যাওয়ার জন্য মন চায় না, তাই না ! যদি তোমাদের জন্য এখনই এখনই অর্ডার দিয়ে দেওয়া হয় যে মধুবন নিবাসী হয়ে যাও, তাহলে খুশি হবে, হবে না ? নাকি এই সঙ্কল্প আসবে যে সেবা কে করবে ? সেবার জন্য তো যেতেই হবে। বাপদাদা যদি বলেন, এখানে বসে যাও তবুও সেবা স্মরণে আসবে ? সেবা করতে তোমাদের উৎসাহিত কে করেন ? বাবার ডিরেকশন এবং শ্রীমৎ যেমনই হবে, তা’ সেই রূপে পালন করা – তাকে বলে প্রকৃত আজ্ঞাকারী বাচ্চা। বাপদাদা জানেন, তোমাদের মধুবনে বসাতে হবে নাকি সেবায় পাঠাতে হবে। ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের সব বিষয়ে এভাররেডি থাকতে হবে। এই মুহূর্তে যে ডিরেকশন পাবে তার জন্য এভাররেডি থাক। সঙ্কল্প মাত্রও মনমত যেন মিক্স না হয়, একে বলে শ্রীমত অনুসরণে চলা শ্রেষ্ঠ আত্মা।

এটা তো জানো যে সেবার জন্য বাপদাদা দায়বদ্ধ, নাকি তোমরা ? এই উত্তরদায়িত্ব থেকে তো তোমরা হালকা, তাই না ? নাকি দায়বদ্ধতার অল্প অল্প বোঝা থাকে তোমাদের ? এত বড় প্রোগ্রাম করতে হবে, এই করতে হবে – বোঝা তো মনে কর না, তাই না ? করাবনহার করাচ্ছেন। করাবনহার একমাত্র বাবা, কারও বুদ্ধিকে টাচ্ ক’রে বিশ্ব-সেবার কার্য করাতে থাকেন আর করাতে থাকবেন। শুধু বাচ্চাদের নিমিত্ত বানান এইজন্য যে করবে সেই পাবে। বাচ্চারাই পায়, বাবার পাওনা নেই। প্রালব্ধ পাওয়া কিংবা সেবার ফল অনুভব হওয়া- এটা আত্মাদের কাজ। সেইজন্য তিনি বাচ্চাদের নিমিত্ত বানান। সাকার রূপেও সেবা করার কার্য দেখেছ এবং এখন অব্যক্ত রূপেও করাবনহার বাবা অব্যক্ত ব্রহ্মা দ্বারাও কীভাবে সেবা করাচ্ছেন সেটাও তোমরা দেখছ। অব্যক্ত সেবার গতি আরও তীব্রগতি ! যিঁনি করানোর তিনি করাচ্ছেন আর তোমরা কাঠের পুতুলের মতো নাচছো। এই সেবাও একটা খেলা। যিঁনি করানোর করাচ্ছেন আর তোমরা নিমিত্ত হয়ে এক কদমের পদমগুণ প্রালব্ধ তৈরি করছ। তাহলে বোঝা কার উপরে ? যিঁনি করাচ্ছেন তাঁর উপরে নাকি যারা করছে তাদের উপরে ? বাবা তো জানেন সেটা বোঝা নয়, তোমরা বোঝা শব্দ ব্যবহার কর সেইজন্য বাবাও বোঝা শব্দ বলেন। বাবার জন্য সবকিছু নিষ্পন্ন হয়েই আছে। সবকিছু শুধু একটা রেখা টানার মতো, রেখা টানা কী বড় ব্যাপার বলে মনে হয়? তাইতো বাপদাদা এইভাবে সেবা করান। সেবাও এতই সহজ যেন শুধু একটা রেখা টানা। তোমরা রিপিটের জন্য রিপিট করছ, শুধু খেলা করছ।

ঠিক যেমন বিঘ্ন মায়ার খেলা, সে’রকমই সেবাও পরিশ্রম নয় বরং খেলা, এ’ রকম ভাবলে সেবায় সদাই রিফ্রেশমেন্ট অনুভব করবে। কোনো খেলা লোকে কেন খেলে ? ক্লান্ত হওয়ার জন্য খেলে না, রিফ্রেশ হওয়ার জন্য খেলে। তা’ যত বড় কার্যই হোক না কেন, তোমরা কিন্তু এ’রকম অনুভবই করবে, যেমন খেলা খেলে তোমরা রিফ্রেশ হয়ে যাও। তা’ যতই কেন না পরিশ্রমের খেলা হোক, কিন্তু খেলা মনে খেললে ক্লান্তি হয় না, কারণ আপন হৃদয়ের ইচ্ছাতে খেলা খেল। খেলাতে যতই হার্ড ওয়ার্ক করতে হোক তবুও তা’ মনোরঞ্জক মনে হয়, কারণ নিজেদের হৃদয় দিয়ে কর। আর লৌকিক কোনো কাজ বোঝার মতো মনে হয়, জীবন যাপন করতে তোমাদের সেগুলো করতেই হবে। ডিউটি ভেবে করো, সেইজন্য পরিশ্রম লাগে। তা’ সেটা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ হোক বা বুদ্ধির পরিশ্রমের, কিন্তু ডিউটি ভেবে করায় ক্লান্ত অনুভব করবে, কেননা তা’ হৃদয়ের খুশিতে করে না। যে নিজের মনের উৎসাহে, খুশিতে কার্য করে সেটা করতে পরিশ্রম হয় না, বোঝা অনুভব হয় না। কখনো কখনো বাচ্চাদের উপরে সেবার আবশ্যিক কাজ অধিক মাত্রায় এসেও যায়, সেইজন্যও কখনো কখনো ক্লান্ত ফীল (অনুভব ) হয়। বাপদাদা দেখেন, কিছু বাচ্চা অক্লান্ত সেবা করার উৎসাহ-উদ্দীপনাতে থাকে। যতই হোক, মনোবল বজায় রেখে তোমরা এগিয়ে যাচ্ছ – এটা দেখে বাপদাদা প্রসন্ন হন। তবুও সদা বুদ্ধিকে অবশ্যই বজায় রাখ।

বাচ্চাদের সব প্ল্যান, প্রোগ্রাম বতনে বসে বাপদাদা দেখতে থাকেন। প্রত্যেক বাচ্চার স্মরণ আর সেবার রেকর্ড বাপদাদার কাছে সবসময় থাকে। তোমাদের দুনিয়ায় যেমন রেকর্ড রাখার অনেক সুবিধা আছে। বাবার কাছে সায়েন্সের সুযোগ-সুবিধা থেকেও রিফাইন উপায় আছে, আপনা থেকেই কার্য করতে থাকে। সায়েন্সের উপকরণ দ্বারা যে কার্যই করা হয়, তা’ লাইটের আধারে করে। সূক্ষ্মবতন তো লাইটেরই। সাকার বতনের লাইটের সুবিধা তবুও প্রকৃতির উপকরণ, কিন্তু অব্যক্ত বতনের সুবিধা-সুযোগ প্রকৃতির নয়। তাছাড়া, প্রকৃতি রূপ বদল করে – সতঃ, রজঃ, তমোতে পরিবর্তন হয়। এই সময় তো প্রকৃতি হয়ই তমোগুণী, সেইজন্য এই সুবিধা আজ চলবে, কাল চলবে না। কিন্তু অব্যক্ত বতনের সাধন প্রকৃতির ঊর্ধ্বে, সেইজন্য সে’সব পরিবর্তন হয় না। যখনই চাও, যেভাবে চাও সূক্ষ্ম সাধন সদাই নিজের কার্য করতে থাকে, সেইজন্য সব বাচ্চার রেকর্ড দেখা বাপদাদার জন্য বড় ব্যাপার নয়। তোমাদের তো সাধন-সমূহ সামলানোই কঠিন হয়ে যায়, তাই না ! সুতরাং বাপদাদা স্মরণ আর সেবার উভয় রেকর্ডই দেখেন, কারণ দুইয়ের ব্যালেন্স এক্সট্রা ব্লেসিংস প্রাপ্ত করায়।

সেবার জন্য যেমন সময় বের কর তো তা’তে তোমরা কখনো কখনো নিয়মের থেকেও বেশি সময় ব্যয় করে ফেল। সেবায় সময় ব্যয় করা খুব ভালো ব্যাপার, তাছাড়া সেবার বলও তোমাদের প্রাপ্ত হয়, সেবাতে বিজি হওয়ার কারণে ছোট ছোট ব্যাপার থেকে বেঁচেও যাও। বাপদাদা বাচ্চাদের সেবায় খুব খুশি, তোমাদের মানসিক শক্তির কাছে তিনি নিজেকেই সমর্পণ ক’রে দেন, কিন্তু যে সেবা স্মরণে, উন্নতিতে সামান্যতম বাধার কারণ হয়, তাহলে এমন সেবার সময় কম করা উচিত। যেমন, তোমরা যখন রাত বারোটা পর্যন্ত জেগে থাক বা একটা বাজিয়ে দাও তখন অমৃতবেলা ফ্রেশ হবে না। নিয়ম অনুযায়ী বসেও যাও কিন্তু অমৃতবেলা শক্তিশালী না হলে সারাদিনের স্মরণ আর সেবায় তারতম্য হয়ে যায়। ধরা যাক, সেবার প্ল্যান বানানোতে বা সেবা প্র্যাকটিক্যালি হতে সময় লাগে, তাহলে রাতের সময়কে কেটে বারোটার বদলে এগারোটার সময় শুয়ে পড়। ওই যে একঘন্টা কম করলে আর শরীরকে রেস্ট দিলে তা’তে অমৃতবেলা ভালো হবে, বুদ্ধিও ফ্রেশ থাকবে। নয়তো, তোমাদের বিবেক দংশন হয় – সেবা তো করছি কিন্তু স্মরণের চার্ট যতটা হওয়া উচিত, ততটা হয়নি। যে সঙ্কল্প হৃদয়ে বা মনে বারবার উৎপন্ন হয় – এটা এ’রকম হওয়া উচিত কিন্তু হচ্ছে না, সেইজন্য সেই সঙ্কল্পের কারণে বুদ্ধিও ফ্রেশ হয় না। আর বুদ্ধি যদি ফ্রেশ হয় তাহলে ফ্রেশ বুদ্ধি দ্বারা ২-৩ ঘন্টার কাজ তোমরা ১ ঘন্টায় করতে পার।ক্লান্ত বুদ্ধিতে টাইম বেশি লেগে যায়, এই অনুভব তো আছে, তাই না ! আর বুদ্ধি যত ফ্রেশ থাকে, শারীরিক ভাবেও ফ্রেশ এবং আত্মিক উন্নতিতেও ফ্রেশ – ডবল ফ্রেশনেস (সতেজতা) যদি থাকে তাহলে এক ঘন্টার কাজ আধ-ঘন্টায় হয়ে যাবে, সেইজন্য সদা নিজের দিনচর্যায় অ্যাটেনশন রাখ যাতে বুদ্ধি ফ্রেশ থাকে। বেশি ঘুমেরও অভ্যাস যেন না হয়, কিন্তু শরীরের প্রয়োজনে যতটা সময় বিশ্রাম আবশ্যক, তার অ্যাটেনশন অবশ্যই রাখ। কখনো কখনো যখন বিশেষ সেবার চান্স হয়, মাসে-দু’মাসে দু’চারবার রাতে দেরি হয়ে যায়, সেটা আলাদা ব্যাপার, কিন্তু যদি নিয়মিত ভাবে শরীর ক্লান্ত হয়ে থাকে তাহলে স্মরণে তারতম্য হবে। যেভাবে তোমরা সেবার প্রোগ্রাম বানাও, চার ঘণ্টা সময় বের করতে হলে তা’ যেমন বের ক’রে নাও, ঠিক সে’ভাবেই স্মরণেরও সময় অবশ্যই বের করতে হবে – এটাও আবশ্যক মনে করে এই বিধিতে নিজেদের প্রোগ্রাম বানাও। অলস হয়োনা, কিন্তু শরীরকে রেস্ট দাও – এই বিধিতে চলো কারণ দিন-দিন আরও তীব্রগতিতে সেবার অগ্রগতির সময় আসছে। তোমরা ভাবছ – আচ্ছা, এই এক বছরের কার্য সম্পূৰ্ণ হয়ে যাবে, তারপরে আমরা রেস্ট নিয়ে নেব, ঠিক করে নেব, স্মরণের সময় বাড়িয়ে নেব। কিন্তু সেবার কার্য তো দিন-দিন নতুন থেকে নতুনতর আর বড় থেকে আরও বড় হওয়ার আছে, সেইজন্য সদা ব্যালেন্স রাখ। অমৃতবেলা যেন ফ্রেশ হয়, পরে সেই কাজ সারাদিন ধরে সময় অনুসারে যদি কর তাহলে বাবার ব্লেসিংও এক্সট্রা প্রাপ্ত হবে এবং বুদ্ধিও ফ্রেশ হওয়ার কারণে তোমরা খুব তাড়াতাড়ি অধিক সফলতা-পূর্বক কার্য করতে পারবে। বুঝেছ ?

বাপদাদা দেখছেন – বাচ্চাদের মধ্যে অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনা, সেইজন্য শরীরের ব্যাপারে ভাবেও না। উৎসাহ-উদ্দীপনায় এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়া বাপদাদার ভালো লাগে, তবুও ব্যালেন্স অবশ্যই প্রয়োজন। যদিও তোমরা করেই চলেছ, এগিয়ে যাচ্ছ তবুও কখনো কখনো যেমন অনেক কাজ থাকে, তখন অনেক কাজের মধ্যে এক তো বুদ্ধির ক্লান্তির কারণে যতটা চাও ততটা করতে তোমরা অপারগ হও আর দ্বিতীয়তঃ, অনেক কাজ হওয়ার কারণে কারও দ্বারা সামান্য অধীরতা কিছু হবে তো ক্লান্তির কারণে বিরক্ত হয়ে যাও। এতে খুশি কম হয়ে যায়। সাধারণতঃ, অভ্যন্তরে তোমরা ঠিক থাক, সেবার বলও তোমাদের প্রাপ্ত হচ্ছে, খুশিও অনুভব করছ, তবুও শরীর তো পুরানো, তাই না ! সেইজন্য ‘টু-মাচ’-এ যেও না। ব্যালেন্স রাখ। স্মরণের চার্টে ক্লান্তির প্রভাব পড়া উচিত নয়, সেবায় যতই বিজি থাক। তোমরা যতই বিজি থাক, ক্লান্তি মেটানোর বিশেষ উপায় প্রতি ঘন্টায় বা দু’ ঘন্টার মধ্যে শক্তিশালী স্মরণের জন্য অবশ্যই এক মিনিট অন্ততঃ বের কর ! যেমন কেউ শারীরিকভাবে যদি দুর্বল হয় তাহলে শরীরকে শক্তি দেওয়ার জন্য ডক্টর্স দু’ ঘন্টা পর পর শক্তির ওষুধ সেবন করতে দেন। টাইম বের করে ওষুধ খেতে তো হয়, তাই না ! সুতরাং মাঝে-মধ্যে যদি শক্তিশালী স্মরণে থাকতে এক মিনিটও বের কর, তাহলে তা’তে এ. বি. সি…. সব ভিটামিন্স এসে যাবে।

তোমাদের বলা হয়েছিল যে শক্তিশালী স্মরণ সদা কেন থাকে না ! তোমরাই যখন বাবার এবং বাবা তোমাদের, সর্ব সম্বন্ধ তাঁর সাথে, হৃদয়ের স্নেহ রয়েছে, তোমরা নলেজফুল, প্রাপ্তির অনুভাবী, তবুও শক্তিশালী স্মরণ সদা কেন থাকে না, তার কারণ কী? স্মরণের লিঙ্ক তোমরা রাখ না। লিঙ্ক কেটে (ভেঙে) যায়, সেইজন্য আবার জুড়তে সময়ও লাগে, পরিশ্রমও লাগে আর শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে দুর্বল হয়ে যায়। বিস্মৃতি তো হতে পারে না, স্মরণ থাকে, কিন্তু শক্তিশালী স্মরণ যাতে সদা থাকে তার জন্য এই লিঙ্ক ভাঙা উচিত নয়। সবসময় বুদ্ধিতে স্মরণের লিঙ্ক যেন জুড়ে থাকে – এটাই তার বিধি। জানবে এটা আবশ্যকও। যেমন বুঝতে পার যে এই কাজটা প্রয়োজনীয়, এর প্ল্যান সম্পূৰ্ণ করেই উঠতে হবে, সেইজন্য তোমরা সময়ও দাও, এনার্জিও লাগাও। তেমনই এটাও আবশ্যক। এই কাজটা পিছনে ফেলে ওই কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভেবো না যে প্রথমে এটা পুরো করে নিই, তারপরে স্মরণ করব, না ! নিজের প্রোগ্রামিংয়ে এর জন্য আগে সময় অ্যাড কর। সেবার প্ল্যানের জন্য যেমন দু’ ঘন্টার টাইম ফিক্স কর – তা’ মিটিং করার জন্যই হোক বা প্র্যাকটিক্যালি কিছু করার জন্য, তখন দু’ ঘন্টার সাথে সাথে স্মরণও মধ্যে মধ্যে করতেই হবে – সে’ সময়টা অ্যাড করো। তারপরে যে প্ল্যান তোমরা এক ঘন্টায় বানাবে, তা’ আধ-ঘন্টায় হয়ে যাবে। করে দেখ। ফ্রেশনেসের সাথে দু’টো বাজলে আপনা থেকেই তোমাদের চোখ খুলে যায়, সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু কাজের জন্য জাগতে হলে তার এফেক্ট (প্রভাব) শরীরের উপরে পড়ে, সেইজন্য ব্যালেন্সের প্রতি অ্যাটেনশন দাও।

বাপদাদা তো বাচ্চাদের এত বিজি দেখে এটাই ভাবেন যে এদের মাথার মালিশ হওয়া উচিত। কিন্তু সময় যদি বের কর তাহলে বতনে বাপদাদা মালিশ করে দেবেন। সেটাও অলৌকিক হবে, এ’রকম লৌকিক মালিশের মতো মোটেই হবে না। একদম ফ্রেশ হয়ে যাবে। শক্তিশালী স্মরণের এক সেকেন্ডও তোমাদের তন আর মন – দুইই ফ্রেশ করে দেয়। বাবার বতনে এসো; যে সঙ্কল্প করবে তা’ পূরণ হয়ে যাবে। তা’ সে’ শরীরের ক্লান্তি হোক, বা মস্তিষ্কের অথবা স্থিতির ক্লান্তি – বাবা তো এসেছেনই ক্লান্তি সরিয়ে দিতে।

আজ ডবল বিদেশিদের সাথে বাপদাদা পার্সোনাল অধ্যাত্ম বার্তালাপ করছেন। তোমরা খুব ভালো সেবা করেছ আর করেও যেতে হবে। সেবার অগ্রগতি হওয়া – এটা ড্রামা অনুসারে তৈরি হয়েই আছে। তোমরা যতই ভাবো – এখন তো অনেক হয়ে গেছে, কিন্তু ড্রামার ভবিতব্যও তৈরি হয়ে আছে, সেইজন্য সেবার প্ল্যান্স তৈরি করতেই হবে আর তোমাদের সবাইকে নিমিত্ত হয়েই করতে হবে। এই ভবিতব্য কেউ বদলাতে পারে না। বাবা চাইলে তোমাদেরকে এক বছরের জন্য সেবা থেকে রেস্ট দিতে পারবেন, কিন্তু বদলাতে পারবেন না। সেবা থেকে ফ্রি হয়ে বসে থাকতে পারবে তোমরা? স্মরণ যেমন ব্রাহ্মণ জীবনের ভোজন, তেমন সেবাও জীবনের রসদ। ভোজন ব্যতীত কেউ কখনো থাকতে পারে? যতই হোক, ব্যালেন্স প্রয়োজন। এতটাও বেশি ক’র না যাতে বুদ্ধির উপরে চাপ পড়ে এবং এতটাও কম ক’র না যাতে অমনোযোগী হয়ে যাও। না বোঝা হবে, না অমনোযোগী হবে – একে বলে ব্যালেন্স। আচ্ছা।

যারা, সদা স্মরণ আর সেবার ব্যালেন্স দ্বারা বাবার ব্লেসিংয়ের অধিকারী, সদা বাবার সমান ডবল লাইট থাকে, সদা নিরন্তর শক্তিশালী স্মরণের লিঙ্ক জুড়ে রাখে, সদা শরীর ও আত্মাকে রিফ্রেশ রাখে, সব কর্ম বিধিসম্মত ভাবে করে, যারা সদা শ্রেষ্ঠ সফলতা প্রাপ্ত করে – এমন শ্রেষ্ঠ, সমীপ বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।

বরদানঃ-

যারা নিজের শ্রেষ্ঠ ভাগ্যকে সদা স্মৃতিতে রাখে, তারা শক্তিশালী (সমর্থ) স্বরূপে থাকে। তাদের সবসময় নিজের অনাদি প্রকৃত স্বরূপ স্মৃতিতে থাকে। কখনো নকল ফেস ধারণ করে না। অনেক বার মায়া কৃত্রিম গুণ আর কর্তব্যের স্বরূপ বানায়। কাউকে ক্ৰোধী, কাউকে লোভী, কাউকে দুঃখী, কাউকে অশান্ত বানায় – কিন্তু প্রকৃত স্বরূপ এই সব বিষয়ের ঊর্ধ্বে। যে বাচ্চারা নিজের প্রকৃত স্বরূপে স্থিত থাকে তারা সূর্যবংশী পদের অধিকারী হয়ে যায়।

স্লোগানঃ-

Daily Murlis in Bengali: Brahma Kumaris Murli Today in Bengali

Email me Murli: Receive Daily Murli on your email. Subscribe!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top