26 November 2021 BENGALI Murli Today – Brahma Kumaris

Read and Listen today’s Gyan Murli in Bengali

November 25, 2021

Morning Murli. Om Shanti. Madhuban.

Brahma Kumaris

আজকের শিব বাবার সাকার মুরলি, বাপদাদা, মাধুবন। Brahma Kumaris (BK) Murli for today in Bengali. This is the Official Murli blog to read and listen daily murlis.

“মিষ্টি বাচ্চারা - নিজেকে রাজযোগী ভেবে বিকারী সম্বন্ধ গুলি থেকে আসক্তি দূর করে দাও, শুধু কর্মের হিসেব পূর্ণ করার জন্য সঙ্গে থাকো”

প্রশ্নঃ --

তোমরা বাচ্চারা দেহ-ভাব বিস্মৃত করেছো, তার স্মরণিকা শাস্ত্রে কোন্ রূপে দেখানো হয়েছে ?

উত্তরঃ -:-

দেখানো হয়েছে পাণ্ডব পাহাড়ে গলে গেছে। কিন্তু তাদের কি প্রয়োজন ছিল বরফে গিয়ে শরীর ত্যাগ করার। স্বাভাবিক নিয়মে হিমালয় পর্বতে কেউ শরীর ত্যাগ করতে যায় না। তোমরা যোগবলের দ্বারা শরীর ত্যাগ করো। দেহ-ভাবের অনুভূতি ভুলে অশরীরী হওয়ার প্র্যাক্টিস কর।

ওম্ শান্তি । আত্মাদের পিতা (রূহানী পিতা) আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে বোঝান। তিনি তো রোজই বোঝান, তবুও অনেক কথা ভুলে যাও। বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এই কথা রাখতে হবে যে এই যুগটি হল সঙ্গম যুগ। আমরা সঙ্গমযুগে আছি। বাবা আসেনও সঙ্গম যুগে। কলিযুগের অন্তিম সময় এবং সত্যযুগের আদি সময়ের সঙ্গম গায়ন আছে। এই সময় আহবানও করা হয়। পতিত দুনিয়া বলা হয় কলিযুগের অন্তিম সময়কে, তাই অন্য কোনো সময়ে আহবান করা হয় না। বাবা আসবেনও না। যখন কলিযুগের অন্তিম সময় হয় তখনই আমাকে ডাকে – বাবা আমরা পতিত, আমাদের পবিত্র করতে এসো। কলিযুগের অন্তিম কাল এবং সত্যযুগের আদিকালে এসো। আহ্বান তো করে কিন্তু তারা জানেনা যে কল্পের আয়ু কত। তারা ভাবে ভক্তি করে, ধাক্কা খেয়ে শেষমেশ ভগবান নিশ্চয়ই মিলবেন। কল্পের অন্ত কবে হবে, তা কেউ জানেনা। স্মরণ তখনই করে যখন কলিযুগের অন্তিম সময় হয়। সত্য যুগ ত্রেতায় তো থাকেই সুখ, দ্বাপরেও এত দুঃখ থাকে না। কলিযুগের মানুষ যখন অনেক দুঃখী হয় তখন বাবাকে আহবান করা আরম্ভ করে। তমোপ্রধান অর্থাৎ দুঃখী, তখনই ডাকবে তাইনা। হে দুঃখ হরণ কারী সুখ প্রদানকারী এসো। দুঃখের বন্ধন তো অনেক। দুঃখের সময়েই ভগবানকে ডাকে, আহবান করে যে, এই বন্ধন থেকে মুক্ত করো। যখন কোনো পথ খুঁজে পায় না তখন উচ্চ স্বরে ডাকতে থাকে। কিন্তু তবুও প্রাপ্তি হয় না। যেমন গোলক ধাঁধা হয়, যেদিকে যাও পথ মেলে না। যখন ক্লান্ত হয়ে যায় তখন চিৎকার করে। ঠিক সেইরকম এখানেও যখন মানুষ অনেক দুঃখী হয় তখন চিৎকার করে – হে দুঃখহর্তা সুখ কর্তা, হে অন্ধের লাঠি। এই সময়েই ডাকে হে অন্ধের লাঠি।

এখন তোমরা হলে সঙ্গমে। এক দিকে হল পাণ্ডব আর অন্য দিকে হল কৌরব। অন্ধ তাদেরকে বলা হয় যারা রচয়িতা এবং রচনার আদি-মধ্য-অন্তের কথা জানেনা। সুন্দর তাদের বলা হয় যারা বাবার দ্বারা রচয়িতা এবং রচনাকে জেনেছে। তোমরা তো বোঝাও আমরা রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত করেছি তাই তো চিত্র দেখাও। সত্যযুগ হল শিববাবার দ্বারা স্থাপিত যুগ, তাই তার নাম শিবালয়। তারপরে বিকারী হয়ে পড়লে বাম মার্গের স্থাপনা হয় যাকে বেশ্যালয় বলা হয়। সত্যযুগ হল শিবালয়। কলিযুগ হল বেশ্যালয়। তোমরা সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণরা এই কথা জানো যে, এখন আমরা না বেশ্যালয়ে আছি আর না শিবালয়ে। আমরা শিবালয়ে যাচ্ছি। এখন হল বেশ্যালয়। এখন আমাদের বিকারী সম্বন্ধ গুলির প্রতি আসক্তি কমেছে। এখন আমাদের মমত্ববোধ হল ভবিষ্যতের সম্বন্ধের প্রতি । আমরা এখন রাজযোগী, তারা হল যোগী। তাদের সঙ্গে কীসের কানেকশন। তবুও কর্মের হিসেব পূর্ণ করার জন্য থাকতে তো হবে নিজের লৌকিক ঘর পরিবারে । তা সত্ত্বেও ব্রাহ্মণদের সঙ্গে কানেকশন থাকে। কারণ ব্রাহ্মণদের মতন উচ্চ সেবা অন্য কেউ করে না। একমাত্র বাবা আত্মাদের সেবা বা রূহানী সেবা করার জন্য নিমিত্ত হন। তিনি আমাদের পিতাও, টিচারও এবং গুরুও। সত্য পিতা, সত্য টিচার, সত্য গুরুও হলেন বাবা। সত্যকে সুপ্রিমও বলা হয়। তাঁর দ্বারা আমরা স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। এই কথাটি স্মরণে থাকলে সারা দিন অনেক খুশী থাকা উচিত, তারপরে অন্যদের বোঝানোর জন্য পুরুষার্থ করা উচিত। সর্ব প্রথমে তো তিনি হলেন পারলৌকিক পিতা। তিনি সত্য শিক্ষকও, সদগুরুও । সৃষ্টি চক্রের আদি মধ্য অন্তের জ্ঞান প্রদান করেন, তাই তাঁকে জ্ঞানের সাগর বলা হয়। সর্বপ্রথমে তো তাঁরই মহিমা বর্ণনা করতে হবে। তিনি সত্য পিতা, সত্য টিচার, সত্য সদ্গুরু । সত্য ধর্মের স্থাপনা করেন।সবাই চায় যাতে এক রাজ্যের স্থাপনা হোক। তা তো সত্য যুগেই হয়। এখানে তো হওয়া সম্ভব নয়। মানুষ বলে ওয়ান ওয়ার্ল্ড হয়ে যাক, একতা হোক। ওয়ার্ল্ড তো একটাই। শুধু ওয়ার্ল্ডে এক এর রাজ্য হোক, তা হয় না। দেবতাদের রাজত্ব ছিল, সেখানে অন্য কোনো কোলাহলের ব্যাপার ছিল না। অসীম জগতের পিতা এসে রাজধানী স্থাপনা করেন। এই কথাও তোমরা এখন বুঝেছো। একমাত্র বাবা এসে রাজযোগের শিক্ষা প্রদান করেন, শ্রীকৃষ্ণ নয়। তারা কৃষ্ণকে ভেবে নিয়েছে। রাজযোগ শিখিয়েছিলেন তখন, যখন রাজধানী স্থাপনা করার ছিল। যদিও শাস্ত্রে তো যা আছে সবই মহিমা মাত্র। শুধু মহিমা করলে কেউ রাজযোগ শেখাবেন কি ? তারা গীতা ইত্যাদি যা শোনায় তারা কোনো রাজযোগ শেখায় নাকি ? গীতা পাঠ করে শোনায় তারা তো কেবল তাদের মহিমা বর্ণনা করে যারা রাজত্ব করে চলে গেছে। ভগবান যাদেরকে গীতা শুনিয়েছেন তারাই রাজ্য পদ প্রাপ্ত করেছে। বাদ বাকি এই সব উৎসব ইত্যাদি হল ভক্তিমার্গের। মুখ্য হলই সঙ্গম যুগের কথা। শিববাবা আসেন, শিব জয়ন্তীর পরে হল কৃষ্ণ জয়ন্তী। শিববাবার আসার পরই নিশ্চয়ই নতুন দুনিয়া স্থাপন হবে। কৃষ্ণ তো হলেন সত্যযুগের মালিক। শিববাবা এসে কৃষ্ণকে এমন বানিয়েছেন। একজন কৃষ্ণকে থোড়াই জ্ঞান প্রদান করেছেন। কৃষ্ণপুরী স্থাপন হবে। আত্মাকে তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান বানানোর জন্য যোগের শিক্ষা দিয়েছেন। তোমরাই পুনরায় সতঃ রজঃ তমঃ তে আসো, তাইনা। এমন নয় সত্যযুগে গিয়ে তোমাদেরকে বসতে হবে। ৮৪ জন্মের হিসেবও তো আছে। সত্যযুগের পরে ত্রেতা, দ্বাপর…. অবশ্যই আসতেই হবে। দিনের পরে রাত হতেই হবে। সত্যযুগের স্থাপনা কে করে, কীভাবে করে ? কারণ সত্যযুগ হলই নতুন দুনিয়া। বাবা বলেন আমরা পুরানো দুনিয়া পরিবর্তন করি। এ হল সেই মহাভারী, মিসাইল ব্যবহৃত মহাভারতের যুদ্ধ । বলা হয় পাণ্ডবরাও ছিল। পাণ্ডবদের বিজয় হয়েছিল। অবশ্যই স্বরাজ্য প্রাপ্তি হয়েছিল। তবেই তো স্ব রাজ্যে আসবে তাইনা। শরীর যেখানেই ত্যাগ হোক না কেন, রাজত্বে তো আসতে হবে। ল’ বলে হিমালয় পর্বতে গিয়ে কেউ দেহ ত্যাগ করে না। যোগের শিক্ষা তো এখানেই প্রাপ্ত করে। যোগবলের দ্বারাই শরীর ত্যাগ করতে হবে। তাদের কি প্রয়োজন ছিল যে পাহাড়ের বরফে গিয়ে শরীর ত্যাগ করেছিল। এ’সবই হল গল্প। যেমন সাপ পুরানো খোলস ত্যাগ করে নতুন ধারণ করে, ঠিক তেমনই আত্মাও এক দেহ ত্যাগ করে অন্যটি ধারণ করে। শান্তিধামে গিয়ে পুনরায় আসবে সত্যযুগে। বাবা বুঝিয়েছেন সত্যযুগে শরীর ত্যাগ করবে সঠিক সময়ে যখন শরীর বৃদ্ধ হবে তখন এক দেহ ত্যাগ করে অন্যটি ধারণ করবে। সেখানে তো আর শান্তিধামে ফিরে যাবে না। শান্তিধামে তো এখন যেতে হবে। এখন সেই প্র্যাক্টিস করা হয় আর তোমাদের সেই প্র্যাক্টিস হয়ে যায় অবিনাশী। এখানে তো এইজন্য প্র্যাক্টিস করানো হয় কারণ পুরানো দুনিয়াকেই ত্যাগ করতে হবে। সেখানে তো থাকবে নতুন দুনিয়া। স্বর্গবাসী শরীর ত্যাগ করে তো স্বর্গেই আসবে। নরকবাসী শরীর ত্যাগ করে নরকেই থাকবে। স্বর্গে তো যেতে পারবে না। সত্যযুগে তো তখন যাবে যখন বাবা এসে রাজযোগ শেখাবেন, তখন দৈবী রাজধানীতে অর্থাৎ সত্যযুগে যেতে পারবে। রাজা-মহারাজার পদ মর্যাদা এখানেও প্রাপ্ত হয়। পদ অন্য প্রাপ্ত হয়, কিন্তু নাম সেটাই থাকে, পরিবর্তন হয় না। কেউ কেউ টাইটেল রেখে দেয়। টাকা দিয়ে টাইটেল প্রাপ্ত করে। পূর্বে লক্ষ দুই লক্ষ টাকা দিয়ে টাইটেল প্রাপ্ত হত। সুতরাং রূহানী বাবা বসে রূহানী বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন। তাঁকেই বলা হয় স্পিরিচুয়াল ফাদার, আত্মাদের পিতা…. যাঁকে আহবান করা হয় যে হে বাবা এসো, এসে আমাদের পতিত থেকে পবিত্র করো। এখানে অনেক দুঃখ আছে। আমাদেরকে রামরাজ্যে নিয়ে চলো। ড্রামা অনুযায়ী ৫ হাজার বছর পূর্বেও এমন বলেছিলে। পরমপিতা পরমাত্মাকে তো আসতেই হবে। এই চক্র আবর্তিত হতেই থাকে। বাবা বলেন আমি কল্প-কল্প, কল্পের সঙ্গমযুগে আসি। এই কথাটি নিশ্চয়ই লিখে দিতে হবে। ড্রামার প্ল্যান অনুসারে আসি। ড্রামা শব্দটিও লিখতে হবে। তবে তো মানুষ জানবে যে, এ হল ৫ হাজার বছরের ড্রামা।

এখন সব মানুষ মাত্রই হল পতিত, তাই নিজেরাই বলে আমরা পাপী, নীচ। বেশ্যালয়ই বলা যায়, এ হল বিষয় সাগর, তাইনা। বিষ্ণুপুরী ক্ষীর সাগর ছিল, যেখানে লক্ষ্মী-নারায়ণ দুইজনই ছিলেন। এই ক্ষীর সাগর তুলনা করে বলা হয়। যদিও ক্ষীর সাগর বলে কিছুই হয় না। সাগর তো সত্যযুগে এই রকমই থাকে। কলিযুগেও আছে। সত্যযুগে সম্পূর্ণ সাগরের মালিক থাকো তোমরা। সম্পূর্ণ পৃথিবী, আকাশের মালিক থাকো তোমরা। এখন ভাগাভাগি হয়ে গেছে। এখন এ হল সঙ্গমযুগ। সঙ্গমযুগ স্মরণে এলে তখন বুঝবে এবারে সত্যযুগে যাবো। সঙ্গম আছে তাহলে তো বাবাও নিশ্চয়ই থাকবেন। তিনি এই দুনিয়াকে পরিবর্তন করেন। স্থাপনা তো ব্রহ্মার দ্বারা এখানেই হয়। এখন তোমরা চিত্র তৈরি করো। বাবা তো হলেন বিন্দু, লাইট মাইটের। তোমাদের আত্মাও হল লাইট। এখন তোমাদের কে লাইট প্রদান করবেন কীভাবে, তো তোমাদের কপালে বিন্দু দিয়েছেন। আত্মাকে লাইট দেবেন কীভাবে ! লাইট দিলেই বিশাল রূপ হয়ে যায়। তারা বিশাল লাইটেরই পূজা করে। তাই মানুষ পরমাত্মাকে জ্যোতি স্বরূপ বলে। বাস্তবে লাইট হল পবিত্রতার নিদর্শন। মানুষ ভাবে – জ্যোতি স্বরূপ। বিন্দুকে যদি লাইটও ছোট মাপের দেওয়া হয়, তাহলে পূজা হবে কীভাবে, তাই বড় সাইজ করে দেয়। বাবা বলেন আমি পরম আত্মা, সুপ্রিম সোল যাঁকে তোমরা পরমাত্মা বলো। কিন্তু ছোট বিন্দুর পূজা হবে কীভাবে। লাইট কীভাবে দেবে। কেউ লিঙ্গ-স্বরূপের পূজা করে, ধনী মানুষ হীরা গোল বানিয়ে তারই পূজা করে। নাম তো শিবলিঙ্গই রাখবে। তিনি তো হলেন স্টার। অন্য কোনো বস্তু নেই। এ হল খুব গুহ্য কথা বোঝার মতো বিষয় । আত্মা ছোট বড় হয় না। নাহলে ফিট হবে কীভাবে। এখন তোমরা যেমন নিজের আত্মাকে জানো তেমনই বাবাকেও জানো। আত্মা বাবাকে আহবান করে, তোমরা নিজের আত্মাকে দেখেছো ? তাহলে পরমাত্মাকে কীভাবে দেখবে ? হ্যাঁ, দিব্য দৃষ্টি দ্বারা দেখতে পাবে। সেই রূপ যখন তোমরা জানো তখন দেখে লাভই বা কি হবে। এইখানে তো পড়াশোনা করার কথা, যার দ্বারা মানুষ থেকে দেবতায় পরিণত হবে। এ হল ভবিষ্যতের নতুন দুনিয়ার জন্য পড়াশোনা। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ কোথা থেকে এমন কর্ম শিখলেন ? সঙ্গমে। বাবা বলেন আমি সঙ্গমে এসেই তোমাদেরকে নতুন দুনিয়ার জন্য পড়াই। বাবা প্রদর্শনীতে টেলিগ্রাম পাঠান, তাতেও এই কথাটা লিখতে বলা হয় যে, এটা হল সঙ্গমযুগ। বাবা বলেন তোমরা আমার থেকে বার্থ রাইট (জন্মসিদ্ধ অধিকার) নাও – ভবিষ্যতের ২১ জন্মের জন্য। সঙ্গমযুগ শব্দটি অবশ্যই লিখতে হবে। সঠিক তথ্য দিয়ে যে টেলিগ্রাম যায় তার প্রতিলিপি অ্যাটাচ করতে হবে। বড় বড় অক্ষরে লেখা উচিত। দিন দিন ক্লিয়ার হতে থাকে । নীচে লেখা হয় বাপদাদা। শিববাবা হলেন আত্মাদের পিতা, উনি প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা শিক্ষা প্রদান করেন। বাবা বলেন আমারও শরীরের আধার তো চাই তাইনা। শিব তো হলেন নিরাকার। তাঁর তো নিজস্ব কোনো শরীর নেই। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্কর তো হলেন সূক্ষ্ম আকারী, বাকিদের তো সবার শরীর আছে। বাবা বলেন – আমার শরীর কোথায় আছে। কিন্তু এমনও তো নয় যে আমি নাম রূপ থেকে পৃথক। খুব স্পষ্ট করে বাচ্চাদেরকে বোঝাই। আমি হলাম নিরাকার। কিন্তু যখন আমি আসি তখন আমার শরীর নিশ্চয়ই চাই। আমি গর্ভে আসি না। আমি নিজেই বলি আমি এই সাধারণ দেহে এসেছি। ইনি প্রথমে পূজ্য ছিলেন, এখন পূজারী হয়েছেন। মালাতেও প্রথমে শিববাবা তারপরে দুটি মুক্তো থাকে। প্রবৃত্তি মার্গ কিনা। এখন তোমরা জেনেছো প্রবৃত্তি মার্গেরই মালা, যারা প্রবৃত্তি মার্গে পতিত ছিল, এখন শিববাবার মত অনুযায়ী পবিত্র হয়ে সৃষ্টিকে পবিত্র করছেন, তাই স্মরণিক রূপে মালা নির্মিত রয়েছে । রুদ্র মালা ও বিষ্ণুর বৈজয়ন্তী মালা। ব্রাহ্মণদের মালা তৈরী হয় না। চেষ্টা করা হয়েছিল তৈরী করার কিন্তু বানানো যায়নি। তাই মালা তৈরী করা, অব্যক্ত নাম প্রদান করা বন্ধ করা হয়েছে। যে নাম এখানে দেওয়া হয় সেই নাম এইখানে ত্যাগ করে আবার পুরানো নাম নিয়ে অনেকে পালিয়ে গেছে। তাদের সেই নতুন নাম দিয়ে আর ডাকা হবে না। অতএব বাবা হলেন আমাদের পিতা – টিচার – গুরু, এমন পিতাকে তো খুব ভালোবাসার সাথে স্মরণ করতে হবে। কিন্তু মায়া এমন বিস্মৃত করে দেয় যে অবস্থা নড়বড়ে হয়ে যায়। নিস্তেজ অনুভব হয়। শিববাবার স্মরণে পুনরায় স্ট্যান্ডিং পজিশন প্রাপ্ত হয়। আচ্ছা !

মিষ্টি – মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা – পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-

১ ) বিকারী সম্বন্ধ গুলির থেকে আসক্তি দূর করতে হবে। ভবিষ্যতের নতুন সম্বন্ধের সঙ্গে বুদ্ধিযোগ লাগাতে হবে।

২ ) অন্যদের বোঝানোর জন্য সর্বক্ষণ খুশীতে থাকতে হবে। সত্য পিতা, সত্য শিক্ষক এবং সদ্গুরুর শ্রীমৎ অনুসারে চলে অন্ধের লাঠি হতে হবে।

বরদানঃ-

শক্তি স্বরূপ হওয়ার জন্য কোমল ভাবকে চমৎকারে পরিবর্তন করো। শুধুমাত্র নিজের সংস্কারকে পরিবর্তন করে কোমল হও, কর্মে কখনও কোমল হবে না, এতে শক্তি রূপ হতে হবে। যে আত্মা, শক্তি রূপের কবচ ধারণ করে নেয়, তার মায়ার কোনো তীর লাগবে না। ফলে তোমাদের চেহারা, নয়ন হাবভাবের দ্বারা কোমল ভাবের পরিবর্তে শক্তি রূপ পরিলক্ষিত হবে, তখন মায়াজিত হয়ে পাস উইথ অনারের সার্টিফিকেট নিতে পারবে।

স্লোগানঃ-

Daily Murlis in Bengali: Brahma Kumaris Murli Today in Bengali

Email me Murli: Receive Daily Murli on your email. Subscribe!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top