31 May 2021 BENGALI Murli Today – Brahma Kumaris

May 30, 2021

Morning Murli. Om Shanti. Madhuban.

Brahma Kumaris

আজকের শিব বাবার সাকার মুরলি, বাপদাদা, মাধুবন। Brahma Kumaris (BK) Murli for today in Bengali. This is the Official Murli blog to read and listen daily murlis.

"মিষ্টি বাচ্চারা -- এই জগৎ-সংসার কবরখানায় পরিণত হবে সেইজন্য এখানে হৃদয়(মন) দিও না, স্বর্গকে(পরিস্তান) স্মরণ করো"

প্রশ্নঃ --

তোমাদের অর্থাৎ দরিদ্র বাচ্চাদের মতন সৌভাগ্যশালী জগতে আর কেউ নয় — কেন ?

উত্তরঃ -:-

কারণ তোমরা অর্থাৎ দরিদ্র বাচ্চারাই ডাইরেক্ট সেই বাবার হয়ে গেছো যাঁর থেকে সদ্গতির উত্তরাধিকার পাওয়া যায়। দরিদ্র বাচ্চারাই পড়ে। ধনবানেরা যদি অল্প পড়েও, কিন্তু মুশকিলই তাদের বাবার স্মরণ থাকে। শেষে তোমাদের বাবা ছাড়া আর কিছুই স্মরণে আসবে না সেইজন্যই তোমরা সৌভাগ্যশালী।

গান:-

হৃদয়ের ভরসা যেন ভেঙ্গে না যায়….

ওম্ শান্তি । বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে বাবা বোঝাচ্ছেন আর বাচ্চারা বুঝছে যে অবশ্যই এই জগৎ-সংসার এখন কবরখানায় পরিণত হবে। প্রথমে এই জগৎ স্বর্গ ছিল, এখন পুরোনো হয়ে গেছে সেইজন্য একে কবরখানা বলা হয়। সকলকেই কবরে যেতে হবে। পুরোনো বস্তু কবরে চলে যায় অর্থাৎ মাটিতে মিশে যায়। বাচ্চারা, সেও কেবল তোমরাই জানো, দুনিয়া জানে না। কিছু বিদেশীরাও অবগত আছে যে এইসময় দেখা যাচ্ছে সবকিছু কবরে চলে যাবে। বাচ্চারা, তোমরাও জানো যে পরিস্তান স্থাপন করেন আমাদের বাবা পুনরায় এসেছেন। বাচ্চারা এও বোঝে, যদি এই কবরখানার সঙ্গে হৃদয়ের যোগসূত্র স্থাপন করেছো তাহলে লোকসান হয়ে যাবে। এখন তোমরা অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে অসীম জগতের সুখের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছো, সেও কল্প-পূর্ব সদৃশ। বাচ্চারা, এ’কথা তোমাদের বুদ্ধিতে সর্বদা থাকা উচিত এইটিই মন্মনাভব। বাবার স্মরণে থাকলেই স্বর্গবাসী হবে। ভারতই স্বর্গ ছিল, আর কোনো খন্ড স্বর্গ ছিল না। এ হলো মায়া রাবণের ফোর্স(পাম্প)। এ স্বল্পসময় পর্যন্ত চলবে। এ হলো মিথ্যে প্রদর্শনী(শো)। মায়া মিথ্যা, কায়া মিথ্যা বলাও হয়, তাই না! এ হলো পরবর্তীসময়ের জাঁকজমক। এ’সব দেখে মনে করে, এখনই তো স্বর্গ রয়েছে, পূর্বে নরক ছিল। বড়-বড় ঘর-বাড়ী তৈরী করতে থাকে, এ হলো ১০০ বছরের প্রদর্শনী। টেলিফোন, বিদ্যুৎ, এরোপ্লেন ইত্যাদি সবই এই ১০০ বছরের মধ্যেই তৈরী হয়েছে। কতরকমের শো সেইজন্যই মনে করে এখনই তো স্বর্গ। পুরোনো দিল্লী কী ছিল ? নতুন দিল্লী এখন কিভাবে ভাল তৈরী হয়েছে। নামই রাখা হয়েছে নতুন দিল্লী। বাপুজী চাইতেন নতুন দিল্লী রাম-রাজ্য হোক, স্বর্গ হোক। এ হলো অস্থায়ী ফোর্স। কত বড়-বড় বাড়ি-ঘর, ঝরনাদি তৈরী করে, একে আর্টিফিসিয়াল স্বর্গ বলা হয়, স্বল্পসময়ের জন্য। তোমরা জানো যে এর নাম স্বর্গ নয়। এর নাম নরক। নরকেরও একধরণের সৌন্দর্য্য আছে। তা হলো স্বল্পকালের জন্য। এ এখনই সমাপ্তির পথে। এখন বাবা বাচ্চাদের বলেন — এক হলো শান্তিধামকে স্মরণ করো। সকল মানুষমাত্রই শান্তি খুঁজে বেড়ায়। কোথায় শান্তি পাবে ? এখন এই প্রশ্ন তো সমগ্র জগতের যে জগতে শান্তি কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে ? বাস্তবে মানুষের জানা নেই যে আমরা হলাম শান্তিধাম-নিবাসী। আত্মারূপী আমরা শান্তিধামে শান্ত থাকে পুনরায় এখানে আসে ভূমিকা পালন করতে। বাচ্চারা সেও তোমাদের জানা আছে, এখন তোমরা পুরুষার্থ করছো সুখধাম যাওয়ার জন্য ভায়া শান্তিধাম। প্রত্যেকের বুদ্ধিতে রয়েছে যে আত্মা-রূপে আমরা আপন ঘরে যাবো, শান্তিধামে। এখানে তো শান্তির কথা হতেই পারে না। এ হলোই দুঃখধাম। সত্যযুগ পবিত্র দুনিয়া, কলিযুগ পতিত দুনিয়া। বাচ্চারা, এ’সমস্ত কথা বোঝার বোধ এখন তোমাদের এসেছে। জগতের মানুষ তো কিছুই জানে না। তোমাদের বুদ্ধিতে এসেছে — অসীম জগতের পিতা আমাদের সৃষ্টি-চক্রের আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বোঝান। তারপর কিভাবে ধর্মস্থাপকেরা এসে ধর্ম স্থাপন করেন। এখন সৃষ্টিতে কত অগণিত মানুষ। ভারতেও অগণিত রয়েছে। ভারত যখন স্বর্গ ছিল তখন অনেক ধনবান ছিল, আর কোনো ধর্ম ছিল না। বাচ্চারা, তোমাদের প্রত্যহ রিফ্রেশ করা হয়। বাবা আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো। ভক্তিমার্গেও এ’সব হয়ে আসছে। সর্বদা অঙ্গুলী নির্দেশ করা হয় যে পরমাত্মাকে স্মরণ করো। পরমাত্মা অথবা আল্লাহ ওখানে রয়েছে। কিন্তু কেবলমাত্র এমনি-এমনিই স্মরণ করলে কি কিছু হয় নাকি! না তা হয় না। তাদের এও জানা নেই যে স্মরণের দ্বারা কি লাভ হবে ! ওঁনার সঙ্গে আমাদের কি সম্বন্ধ ? জানেই না। দুঃখের সময় ডাকে — হে রাম…… আত্মা স্মরণ করে। কিন্তু তাদের এ’কথা জানা নেই যে সুখ-শান্তি কাকে বলা হয়। তোমাদের বুদ্ধিতে আসে যে আমরা সকলেই এক পিতার সন্তান তাহলে দুঃখ হবে কেন ? অসীম জগতের পিতার থেকে সদা সুখের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। এও চিত্রে পরিস্কারভাবে দেওয়া আছে। ঈশ্বর হলেনই স্বর্গের স্থপতি, হেভেনলী গডফাদার। তিনি ভারতেই আসেন। এ’কথা কেউ বুঝতে পারে না। দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা অবশ্যই সঙ্গমেই হবে, সত্যযুগে কিভাবে হবে! কিন্তু এ’সবকথা অন্য ধর্মাবলম্বীরা জানে না। নলেজফুল বাবাই এ’সব বুঝিয়ে থাকেন — আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম কিভাবে স্থাপিত হয়েছে। সত্যযুগের আয়ু লক্ষ-লক্ষ বছর বলে অনেক দূরে করে দেয়। বাচ্চারা, তোমাদের এই চিত্রের উপরেই বোঝাতে হবে। ভারতে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। ওনারা কিভাবে, কবে এই রাজ্য পেয়েছিল, তা জানে না। কেবল বলে — এনারা সত্যযুগের মালিক ছিলেন। তাদের সম্মুখে গিয়ে ভিক্ষা করতে থাকে, অল্পসময়ের জন্য কিছু না কিছু পেয়ে যায়। কেউ-কেউ দান-পুণ্যাদি করে তাদেরও অল্পকালের জন্য ফল প্রাপ্ত হয়। দরিদ্র পঞ্চায়েত মুখিয়ারও এতটাই খুশী থাকে, যতখানি ধনবান মুখিয়ার। দরিদ্ররাও নিজেদের সুখী মনে করে। বম্বেতে দেখো, দরিদ্র মানুষেরা কেমন-কেমন স্থানে বসবাস করে। বাচ্চারা, তোমরা এখন বোঝ — অবশ্যই কোটিপতি কিন্তু তারা কত দুঃখী। তোমরা বলবে, আমাদের মতন সৌভাগ্যশালী আর কেউ নেই। আমরা ডাইরেক্ট বাবার হয়ে গিয়েছি, যাঁর থেকে সদ্গতির উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। বড়-বড় ব্যক্তিরা কখনো উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারে না। যে দরিদ্র সে ধনবান হয়ে যায়। পড়ো তোমরা, ওরা তো অশিক্ষিত। যদি সামান্য পড়েও কিন্তু বাবার স্মরণে থাকতে পারে না। অন্তিমে তোমাদের বাবা ব্যতীত আর কিছুই স্মরণে থাকবেনা। তোমরা জানো যে এ’সব কবরখানায় পরিণত হবে। বুদ্ধিতে থাকা উচিত, এই যে আমরা কাজ-কর্মাদি (ধান্ধা) করি, কিছু সময়ের জন্য। ধনবানেরা ধর্মশালাদি তৈরী করে। সে’সব কোনো ব্যবসার জন্য তৈরী করে না। যেখানে তীর্থ সেখানেই ধর্মশালা থাকবে না তো কোথায় থাকবে, সেইজন্যই ধনবানেরা ধর্মশালা তৈরী করে। এ’রকম নয় যে সেখানে ব্যবসায়ীরা এসে ব্যবসা করবে। ধর্মশালা তীর্থস্থানেই তৈরী করা হয়ে থাকে। এখন তোমাদের সেন্টার হলো সর্বাপেক্ষা বড় তীর্থ। যেখান-যেখানে তোমাদের সেন্টার রয়েছে সেখানেই তা হলো বৃহত্তম তীর্থক্ষেত্র। যেখান থেকে মানুষ সুখ-শান্তি প্রাপ্ত করে। তোমাদের এই গীতা পাঠশালা অনেক বড়। এ হলো উপার্জনের উৎস, এর থেকে তোমাদের অনেক আমদানী হয়। বাচ্চারা, তোমাদের জন্য এও হল ধর্মশালা। সর্বাপেক্ষা বড় তীর্থ। তোমরা অসীম জগতের পিতার থেকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত কর। এরথেকে বৃহত্তম তীর্থ আর হয় না। ওই সমস্ত তীর্থে গিয়ে তো তোমরা কিছু পাও না। সেও তোমরা বোঝ। ভক্তরা অতি প্রেম-পূর্বক মন্দিরাদি থেকে চরণামৃত নেয়। মনে করে এতেই আমাদের হৃদয় পবিত্র হয়ে যাবে। কিন্তু এ তো কেবলই জল। এখানে তো বাবা বলেন — আমায় স্মরণ করো তবেই উত্তরাধিকার পাবে। এখন অসীম জগতের পিতার থেকে তোমরা অবিনাশী জ্ঞান-রত্নের ভান্ডার(খাজানা) পাও। অধিকাংশই শঙ্করের কাছে যায়, মনে করে অমরনাথ পার্বতীকে কথা শুনিয়েছেন, তখন বলে ঝুলি পূর্ণ করে দাও…..তোমরা অবিনাশী জ্ঞান-রত্নের দ্বারা ঝুলি পরিপূর্ণ কর। তাছাড়া অমরনাথ কি কোনো একজনকেই বসে কথা শোনাবে নাকি, না তা শোনাবে না। অবশ্যই অনেকেই হবে আর সেও এই মৃত্যুলোকেই হবে। সূক্ষ্মলোকে তো কথা শোনানোর প্রয়োজনই নেই। অসংখ্য তীর্থ তৈরী করা হয়েছে। অগণিত সাধু-সন্ত, মহাত্মাদি সেখানে যায়। অমরনাথে লক্ষ-লক্ষ মানুষ যায়। কুম্ভমেলায় গঙ্গা-স্নান করতে সবচেয়ে বেশী যায়। মনে করে, আমরা পবিত্র হব। বাস্তবে কুম্ভমেলা হলো এখানে। ওই মেলা তো জন্ম-জন্মান্তর ধরে করে এসেছো। কিন্তু বাবা বলেন — এখান থেকে ফিরে নিজেদের ঘরে কেউই যেতে পারে না কারণ যখন আত্মা পবিত্র হবে তখনই যেতে পারবে। কিন্তু অপবিত্র হওয়ার কারণে সকলের ডানা ভেঙে রয়েছে। আত্মা পাখনা পেয়েছে, যোগে থেকে আত্মা সবচেয়ে বেশী ওড়ে। কারোর হিসেব-নিকেশ যদি লন্ডনে, আমেরিকায় হয় তখন ততক্ষণাৎ উড়ে যাবে। সেখানে সেকেন্ডে পৌঁছে যাবে। কিন্তু মুক্তিধামে তো যখন কর্মাতীত হবে তখনই যেতে পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এখানেই জন্ম-মৃত্যুতে (চক্রে) আসবে। যেমন ড্রামা টিক-টিক করে চলে। আত্মাও ঠিক তেমনই, টিক হলেই সে(আত্মা) চলে যায়। এর মতন তীব্র গতিসম্পন্ন আর কোনো জিনিস হয় না। অগণিত সব আত্মারা মুলবতনে যাবে। আত্মার কোথা থেকে কোথাও পৌঁছতে দেরী লাগে না। মানুষ এ’কথা বোঝে না। বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে আসে যে নতুন দুনিয়ায় অবশ্যই স্বল্পসংখ্যক আত্মা থাকবে আর সেখানে তারা সুখী থাকবে। সেই আত্মারাই এখন ৮৪ জন্ম ভোগ করে অত্যন্ত দুঃখী হয়ে পড়েছে। তোমাদের সমগ্র চক্রই জানা রয়েছে। তোমাদের বুদ্ধিই চলে আর কোনো মানুষমাত্রেরই বুদ্ধি চলে না। প্রজাপিতা ব্রহ্মারও গায়ন রয়েছে। কল্প-পূর্বেও তোমরা এমনই ব্রহ্মাকুমার-কুমারী হয়ে ছিলে। তোমরা জানো যে আমরা প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান। আমাদের দ্বারা বাবা স্বর্গের স্থাপনা করাচ্ছেন। যখন পুরুষার্থের নম্বরের অনুক্রমে সুযোগ্য হয়ে যাবে তখন পুরোনো দুনিয়ার বিনাশ হয়ে যাবে। ত্রিমূর্তির গায়নও এখানেই করা হয়। ত্রিমূর্তির চিত্রও রাখে। সেখানে শিবকে দেখানো হয় না। বলাও হয় যে — ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপন, কে করায় ? শিববাবা। বিষ্ণুর দ্বারা পালন। তোমরা অর্থাৎ ব্রাহ্মণেরা এখন সুযোগ্য হয়ে উঠছো, দেবতা হওয়ার উদ্দেশ্যে। এখন তোমরা সেই ভূমিকাই পালন করছো। কল্প-পরবর্তীকালেও পুনরায় পালন করবে। তোমরা পবিত্র হয়ে যাও। তোমরা বলো — বাবার আজ্ঞা হলো, কাম-রূপী শত্রুর উপর বিজয়প্রাপ্ত কর, মামেকম্ স্মরণ করো। অত্যন্ত সহজ। বাচ্চারা, ভক্তিমার্গে তোমরা অনেক দুঃখ দেখেছো। অনেক করেও অল্পসুখ হয়, সেও স্বল্পকালের জন্য। ভক্তিতে সাক্ষাৎকার হয়, সেও অল্পসময়ের জন্য। তোমাদের আশা পূর্ণ হয়, এই সাক্ষাৎকার হয় — সেও তো আমিই করাই। ড্রামায় নির্ধারিত। সেকেন্ড বাই সেকেন্ড যা অতিবাহিত হয়ে গেছে, সেই ড্রামা চিত্রায়িত (শ্যুট) হয়ে গেছে। এমন বলো না — এখন শ্যুট হলো। না, এ তো অনাদি পূর্ব-নির্ধারিত ড্রামা। যত অ্যাক্টর্স রয়েছে — সকলেই ভূমিকাই অবিনাশী। মোক্ষ তো কেউই পায় না। সন্ন্যাসীরা বলে — আমরা বিলীন হয়ে যাই। বাবা বোঝান — তোমরা হলে অবিনাশী আত্মা। আত্মা বিন্দু, এত ছোট বিন্দুর মধ্যে ৮৪ জন্মের পার্ট নির্ধারিত রয়েছে। এই চক্র চলতেই থাকে। যারা সর্বপ্রথমে ভূমিকা পালন করতে আসে, তারাই ৮৪ জন্ম নেয়। সকলেই তো নিতে পারবে না। তোমরা ব্যতীত আর কারোর বুদ্ধিতে এই জ্ঞান নেই। জ্ঞানের সাগর হলেন অদ্বিতীয় পিতা। তোমরা জানো যে আমরা বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। বাবা আমাদের পতিত থেকে পবিত্র করে দেন। সুখ আর শান্তির উত্তরাধিকার প্রদান করেন। সত্যযুগে দুঃখের নাম ও নিশান থাকে না। বাবা বলেন — আয়ুষ্মান ভব, ধনবান ভব…. নিবৃত্তি-মার্গীয়রা এরকম আশীর্ব্বাদ দিতে পারে না। বাচ্চারা, বাবার থেকে তোমরা উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছো। সত্যযুগ-ত্রেতা হলো সুখধাম। পরে দুঃখ কিভাবে আসে, তাও কেউই জানে না। দেবতারা বাম-মার্গে কিভাবে যায়, সেই স্মৃতি-স্মারক রয়েছে। জগন্নাথ পুরীতে দেবতাদের চিত্র, মুকুটাদি পরিহিত দেখানো হয় আবার অশ্লীল চিত্রও তৈরী করা হয়েছে সেইজন্যই তাদের মূর্তিও কৃষ্ণবর্ণের করা হয়েছে, যারফলে এ’কথা প্রমাণিত হয় যে দেবতারা বাম-মার্গে চলে যায় আর শেষে সম্পূর্ণ কালো হয়ে পড়ে। এখন তোমরা জানো যে ভারত কত সুন্দর ছিল পুনরায় তমোপ্রধান হতেই হবে — ড্রামা প্ল্যান অনুসারে। সঙ্গমযুগে এখনই তোমাদের এই নলেজ রয়েছে। বাবা নলেজফুল। তিন-স্বরূপেই অর্থাৎ বাবা, টিচার, গুরু হলেন তোমাদের একজনই। এ যেন সদা বুদ্ধিতে থাকে যে শিববাবা আমাদের পড়ান। এ হলো অসীম জগতের অধ্যয়ন, যার দ্বারা তোমরা নলেজফুল হয়ে গেছো। তোমরা সবকিছু জানো। ওরা বলে — সর্বব্যাপী, তোমরা বলো তিনি পতিত-পাবন। কত রাত-দিনের পার্থক্য হয়ে যায়। এখন তোমরা মাস্টার নলেজফুল হয়েছো, নম্বরের অনুক্রমে। যা বাবার কাছে রয়েছে তাই-ই তোমাদের শেখান। তোমরাও সকলকে এমনভাবেই তৈরী করো, বাবাকে স্মরণ করো তবেই ২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-

১ ) স্বয়ং তরতাজা থেকে অন্যান্যদের তরতাজা করার জন্য বাবা এবং উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে হবে আর সকলকে স্মরণ করাতে হবে।

২ ) এই পুরোনো জগতের প্রতি, এই কবরখানার প্রতি হৃদয়ের যোগসূত্র স্থাপন করা উচিত নয়। শান্তিধাম, সুখধামকে স্মরণ করতে হবে। স্বয়ং-কে দেবতায় পরিনত করার যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে।

বরদানঃ-

সঙ্গমযুগে বাপদাদার দ্বারা সমস্ত বাচ্চাদের মুকুট এবং সিংহাসন প্রাপ্ত হয়। পবিত্রতার মুকুট যেমন রয়েছে তেমনই কর্তব্যের মুকুটও রয়েছে, ভ্রুকুটি সিংহাসন যেমন রয়েছে তেমনই হৃদয়-সিংহাসনও রয়েছে। যখন এমন দ্বি-মুকুটধারী এবং দ্বি-সিংহাসনের অধিকারী হয়ে যাও তখন নেশা এবং নিশানা স্বততঃ-ই স্মরণে থাকে। তখন আবার এই কর্মেন্দ্রিয়গুলি আজ্ঞে হুজুর! করতে থাকে। যারা মুকুট এবং সিংহাসন পরিত্যাগ করে তাদের আদেশ কোনও মানুষই মান্য করে না।

স্লোগানঃ-

Daily Murlis in Bengali: Brahma Kumaris Murli Today in Bengali

Email me Murli: Receive Daily Murli on your email. Subscribe!

0 Comment

No Comment.

Scroll to Top